আশাকর্মীদের ডেপুটেশন,পাঁচলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,



নিজস্ব প্রতিবেদক,

 ১৫ ই মে গ্রামীণ ভারতে কোভিড সংক্রমণ রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যালোচনা বৈঠকে বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন আশাকর্মীদের প্রতিদিনই বাড়ি বাড়ি যেতে হবে।কারুর কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই ওই ব্যক্তির করোনা পরীক্ষা করতে হবে, শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা,তাপমাত্রা মাপতে হবে,ব্লক থেকে ওষুধ এনে বাড়ি বাড়ি দিতে হবে।আবার সেই রোগীর সাথে ছবি তুলে আধিকারিকদের পাঠাতে হবে। বিভিন্ন জেলায় জোরপূর্বক কোনো সুরক্ষা ছাড়াই একাজ করানো হচ্ছে এবং নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে চলেছে। করোনা রোগীর পরিষেবা দেওয়ার পর মা- শিশুর সমস্তরকম পরিষেবাও  সেই আশাকে দিতে হয়।



আপনারা  সকলেই একমত হবেন বর্তমান পরিস্থিতিতে  সকল স্তরের স্বাস্থ্য কর্মীরা দায়িত্ব ও কর্তব্য  ঠিক ঠিকভাবে পালন করছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যাবস্থার উপযুক্ত কোনো পরিকাঠামো নেই,'আশা'দের এসকল কাজের কোনো ট্রেনিং নেই, এমনকি তাদের কোনো সুরক্ষাও নেই। নেই স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো স্বীকৃতি। উপরন্তু কোনো একজন মানুষের দ্বারা এত কাজ করা একেবারেই অসম্ভব। জোর পুর্বক কাজ চাপিয়ে  দেওয়ায় আশা’রা আজ সত্যিই  শারীরিক  ও মানসিকভাবে  বিপর্যস্ত।
আশা কর্মীরা এই সমস্ত সমস্যাগুলি বার বার বিভিন্ন দফতরে জানিয়েছে,বিভিন্ন রাজ্যে এবং এরাজ্যেও নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই. তারা ২৪ শে মে 'স্কীম ওয়ার্কার্স ফেডারশন অফ ইন্ডিয়া'র পক্ষ থেকে  আশাকর্মীদের ২৪ ঘন্টার সারা ভারত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে  আশা কর্মীদের এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সমাধান নাহলে তারা আরো বৃহত্তর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।         



           আশা কর্মীদের দাবিসমূহ:-                     ১।করোনা সংক্রান্ত কাজের জন্য কেন্দ্র সরকারকে মাসিক ৫০০০ টাকা করে দিতে হবে এবং কোভিড সংক্রামিত কর্মীদের ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে।   ২। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্লক মেডিক্যাল  অফিসারের নেতৃত্বে সমস্ত ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীর সম্মিলিত টিমের মাধ্যমে এ কাজ করতে হবে। ৩।কাজ করতে পারার মতো উপযুক্ত সুরক্ষা সামগ্রী এবং পারিশ্রমিক অবশ্যই দিতে হবে। ৪। কোভিড পরিষেবার জন্য আশা কর্মীদের মাসিক অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ৫। করোনা আক্রান্ত হলে  আশা কর্মীদের  এক লক্ষ টাকা চিকিৎসা ভাতা দিতে হবে এবং চিকিৎসার আলাদা সুবন্দোবস্ত করতে হবে ।  ৬। সমস্ত ধরনের  সুরক্ষা সামগ্রী  অবিলম্বে দিতে হবে ।  ৭। আশা কর্মীদের  সমস্ত কাজের সরকারি অর্ডার দিতে হবে ।              তাছাড়া আশাকর্মীদের এই কাজের মূল্য তারা যা পায় বাস্তবে তা দিয়ে কোনো কিছুই হয়না, সেটুকুও মাসের পর মাস তারা পাচ্ছে না। করোনা আক্রান্ত হয়ে বহু ক্যাটাগরির কর্মী ১ লক্ষ টাকা করে পেয়ে গেল, ভোটকেন্দ্রে ডিউটি করে সবাই টাকা পেয়ে গেল, অথচ আশা’দের ক্ষেত্রেই টান পড়ে গেল।



 আশা কর্মীরা মনে করে এ এক চূড়ান্ত উদাসীনতা এবং অবিচার। তাই "পশ্চিমবঙ্গ  আশাকর্মী  ইউনিয়ন" ২৪শে মে সারাভারত ধর্মঘট কে সমর্থন করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ব্লক গুলিতে স্বাস্থ্য আধিকারিক এর কাছে ডেপুটেশনে সামিল হয়েছে। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে পাঁচলা ব্লকের বি এম ও এইচ  এবং বিডিও কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার  কর্মসূচি নেয়া হয়। 
                          
AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com