আন-এডেড মাদ্রাসা বিষয়ে হাত ধুয়ে ফেলছে রাজ্য সরকার




রাজ্য সরকার ২৩৫ টি আন-এডেড মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ২০১৫ সালে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকার সে প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। 



বরং যে সামান্য সুযোগ সুবিধা চালু করেছিল তাও বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৩--২০১৪ সালে এক বছর প্রতি মাদ্রাসা থেকে তিন জন শিক্ষককে বেতন দিয়েছিল। 



স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের মাসিক ১২ হাজার টাকা এবং স্নাতক শিক্ষকদের মাসিক ৬ হাজার টাকা দিয়েছিল। 



এটাও ২০১৫ সাল থেকে বন্ধ আছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আন-এডেড মাদ্রাসা সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এর সাথে দেখা করে সমস্যা সমাধানের জন্য দাবি জানান। মন্ত্রী পরিস্কার করে জানিয়ে দেন তাঁর পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। যা বলার মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হবে। কারণ তিনি মাদ্রাসা দপ্তরের মন্ত্রী। 



রাজ্যে তিন ধরনের মাদ্রাসা আছে। সিনিয়র মাদ্রাসা বা আলিয়া মাদ্রাসা, জুনিয়র হাই মাদ্রাসা এবং হাই মাদ্রাসা। এই তিন ধরনের মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন এর জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় আটশো আবেদন জমা পড়েছিল। 



সরকার কোন আবেদন মঞ্জুর করেনি। আবেদন পত্রগুলিকে  এমএসকে, মাদ্রাসা এবং এসএসকে, মাদ্রাসার অনুমোদনের আবেদন পত্র হিসেবে গ্ৰহণ করে। কিন্তু মাত্র ২৩৫ টি মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেওয়ার কথা জানায়। কিন্তু এখনো সে পথে রাজ্য সরকার হাঁটেনি। কেন্দ্রীয় সরকারের এসপিকিউইএম প্রকল্প থেকে এক বছর টোকেন বেতন দিয়েছিল। অন্য মাদ্রাসাগুলি নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। 


২৩৫ টি মাদ্রাসার ২৫০০ জন শিক্ষক এবং ৪০০০০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যত অন্ধকারে।
আমাদের দাবি : ১। ২৩৫ টি অনুমোদন প্রাপ্ত মাদ্রাসার সকল শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেতন দিতে হবে। 
২। পরিকাঠামো তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। 
৩। মিড-ডে-মিল এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। বাকি মাদ্রাসাগুলোকেও অনুমোদন করতে হবে। 



তৃণমূল  প্রথমবার সরকারে আসার পর ঘোষণা করে ছিল দশ হাজার মাদ্রাসার অনুমোদন দেবে। সেই ঘোষণার পর ২৩৫ টি মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেয়। কিন্তু বলা হয় অনুদানহীন অনুমোদন ( approval without aid ) । অর্থাৎ লেখাপড়া করানোর অনুমতি দিলাম। মাদ্রাসা হিসেবে স্বীকৃতি দিলাম । 



কিন্তু কোন রকম অনুদান দেব না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়। আদালত রায় দেয় অনুদান ছাড়া অনুমোদন করা চলবে না। অনুমোদন করলে অনুদান দিতে হবে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার গা বাঁচানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের এসপিকিউএমই প্রকল্প থেকে এক বছর টাকা দেয়। এক বছর পর সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্য সরকার জানায় কেন্দ্রীয় সরকার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে রাজ্য সরকার প্রাপ্ত টাকার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেয়নি বলেই তারা টাকা দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে।


২৩৫ টি অনদানহীন মাদ্রাসার মধ্যে অনুদানহীন  হাই মাদ্রাসা ১০টি ( unaided high Madrasah ) , অনুদান হীন সিনিয়র মাদ্রাসা ৭৬ এবং অনুদান হীন জুনিয়র হাই মাদ্রাসা ১৪৯ টি ।
বাংলা গণ মোর্চা শীঘ্রই এ নিয়ে ময়দানে নামছে।

0/Post a Comment/Comments