হাওড়া গ্রামীণে আনলক পর্বে সরকারী বাস না চলায় বিপাকে বাসযাত্রীরা

উলুবেড়িয়া ঃঃ  দেশজুড়ে লকডাউন উঠে আনলক পর্ব শুরু হয়েছে। ক্রমশ ছন্দে ফিরছে জীবনযাত্রা। তবে জনজীবনকে আরো বেশি স্বাভাবিক করে তুলতে পরিবহন ব্যবস্থার আরো বেশি ব্যবহার করা দরকার।

গ্রামীণ হাওড়ার ক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় বেসরকারি বাস চলাচল করলেও সরকারী বাস না থাকার কারণে, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষতঃ গ্রামীণ হাওড়ার  আমতা, বাগনান, বাক্সী, গাদিয়াড়া রানিহাটি,গড়ভবানীপুর, সহ একাধিক রূটে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন লিগমের বাস চলাচল করে থাকে। কোভিদ-১৯ এর পর থেকে ওইসব রুটের  বাস না চলায় ঘর বন্দী হয়েছিলেন মানুষ। তবে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর আনলক পর্বে সরকারি বাস না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ যাত্রীদের। 

কারন ঐ সব রুটে গুটিকয়েক বেসরকারি বাস চলাচল করলেও তাতেই গাদাগাদি করে মানুষদের উঠতে হচ্ছে। বেসরকারি বাস যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই সময় কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় এবং দূরপাল্লার রুটে সরকারি বাস চলাচল করলেও শহরতলীর এইসব এলাকা থেকে সরকারী বাস না চলায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এই সব সরকারি বাসে
শুধু হাওড়া বা কোলকাতা শহর নয়। গ্রামাঞ্চলের এক প্রান্ত থেকে ও অপর প্রান্তে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সরকারি বাসের গুরুত্ব অনেকটাই।

আনলক পর্ব চালু হলেও এখনো পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে না। তাই সাধারণ মানুষের ভরসা এই বাস পরিষেবা।
গ্রামীণ জেলার মধ্যে একদা বন্দর নগরী বলে পরিচিত আমতা। এই আমতা থেকে ধর্মতলা রুটের সরকারি বাস চলাচল করে থাকে। ব্যস্ততম এই রুটটিতে সারাদিনে সরকারি বাস কমপক্ষে ত্রিশটি ট্রিপ যাতায়াত করে থাকে। 

আমতা থেকেও এইবাস ছাড়লেও আমতার পার্শ্ববর্তী এলাকা খড়দহ, উদঙ্গ, জয়পুর অমরাগড়ী, এমনকি পাশের জেলা হুগলির খানাকুল পলাশপাই মুচিঘাটা সহ বহু এলাকার মানুষ এই আমতা সরকারি বাস ধরে ধর্মতলা ও অন্যান্য জায়গায় যাতায়াত করে থাকেন। 

লকডাউনের পর দু-একদিন আমতা-ধর্মতলা রুটের বাসের দেখা মিললেও তারপর থেকে আর বাস মিলছে না ।  আইএনটিটিইউসির আমতা থানার সভাপতি অশোক ধাড়ার অভিযোগ,দূ' একদিন বাস চলাচল করলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকরা। অশোক বাবু বলেন বিষয়টি নিয়ে আমরা আমাদের এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার নির্মল মাজীর হস্তক্ষেপের পর কয়েকদিন বাস চলাচল করেছিল।  রাজ্যের মন্ত্রী নির্মল মাজীর অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই আবার সেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।


আমতা ধর্মতলার রুটের নিত্যযাত্রী ব্যবসায়ী সনাতন সাধুখাঁ বলেন, ব্যবসার কারণে সপ্তাহে প্রায় দুই থেকে তিনবার কলকাতায় যাতায়াত করে থাকেন। তিনি বলেন এখন আমতা থেকে ধর্মতলার মধ্যে বেসরকারি বাস চলাচল করলেও তাদের ভাড়া ও অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন সনাতন।

আমতা থেকে কলকাতার মধ্যে সপ্তাহে তিন দিন যাতায়াত করেন সোনালী সামন্ত। সোনালী বলেন,টিউশনি সহ পড়াশোনার কাজে কলকাতায়   যোগাযোগ করতে হয়। সোনালী বলেন সরকারী বাসের একটা টাইমটেবিল থাকে। বেসরকারি বাসের টাইমটেবিল থাকে না বলে সোনালীর মন্তব্য।

গ্রামীন জেলার বাগনান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বাগনান থেকে তিনটি জেলার হাজার হাজার মানুষ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহন নিগমের যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। এই বাগনান থেকে সরকারী বাস না চলার ফলে সাধারন যাত্রীরা বিশেষ অসুবিধায় পড়েছেন। 

বাগানানের ফল ব্যবসায়ী সুব্রত চৌধুরী বলেন সরকারী বাস না চলার ফলে প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ বাগনানমুখী হচ্ছেন না। ফলে তাদের ব্যবসা ও ভীষনভাবে মার খাচ্ছে।


জেলার শেষপ্রান্ত গাদিয়াড়া। ধর্মতলা থেকে গাদিয়াড়া রুটটি খুবই জনপ্রিয়। কারন কলকাতার এসপ্লানেড থেকে গাদিয়াড়া রুটের মাঝে পড়ে আর এক পর্যটন কেন্দ্র গড়চুমুক। এই রুটের মাঝে আছে শ্যামপুর এক নম্বর ব্লক ও থানার প্রশাসনিক কার্যালয়ের অবস্থান। স্বাভাবিকভাবে এই রুটের কয়েক হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।
আনলক পর্ব চালু হওয়ার পর গাদিয়াড়া তে একটি সরকারি হোটেল ও একাধিক বেসরকারি হোটেল খুলে দেওয়া হয়েছে।‌ তবে এখন ঐসব হোটেলগুলোতে মানুষ অনেক কম আসছেন।সরকারী হোটেলের এক কর্মী বলেন আমাদের এই হোটেলে অনেক মানুষ চারচাকা গাড়ি করে আসেন। তবে সরকারি বাসে চেপে আসা বেড়ানোর মানুষের সংখ্যাও কম নয়। সরকারি হোটেল এক কর্মচারীর মতে সরকারি বাস চলাচল করলে তাদের বোর্ডার সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। অন্যদিকে বেসরকারি হোটেলের মালিকরা বলেন তাদের হোটেলের বেশিরভাগ বোর্ডার আসেন বাসে চেপে। ওইসব হোটেল মালিকরা চাইছেন অবিলম্বে আগের মতই সরকারি বাস চলাচল শুরু হোক।


জেলার মধ্যে দিয়ে যাওয়া মুম্বাই রোডের রানিহাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন। এই জংশন এলাকা থেকে আমতা, রাজাপুর উলুবেড়িয়া পাঁচলা উদয়নারায়নপুর সহ কয়েকটি জায়গার এই রানিহাটি থেকে ধর্মতলা যাতায়াত করে থাকেন। এখানকারই যাত্রী চাহিদা থাকার জন্য পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দপ্তর রানিহাটি থেকে একটি সরকারি বাস চালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। লকডাউন উঠে যাবার পরও এখনো রানিহাটি থেকে কোন সরকারি বাস চলাচল করছে না। ওই এলাকার যাত্রীরা বেসরকারি বাসে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।


উদয়নারায়নপুর গ্রামীণ হাওড়া জেলার একাকার প্রত্যন্ত এলাকার ভবানীপুর থেকে একটি সরকারি বাস চলাচল করত। হেই বাস চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।


0/Post a Comment/Comments