গানে কবিতায় কথায় নিউ বারাকপুরে বিদ্যাসাগর স্মরণ





ভারতীয় নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে উদযাপন করল নিউ বারাকপুর বিদ্যাসাগর চর্চা কেন্দ্র। 



শনিবার বিকেলে স্হানীয় সতীনসেননগর আম্বেদকর ভবনে স্হানীয় শিল্পী লেখক শিক্ষক সাংস্কৃতিকনুরাগী সমাজকর্মী বুদ্ধিজীবিরা মহান মনীষীকে স্মরণ করেন গানে কবিতায় কথায় আলোচনায়। শুরুতে বিদ্যাসাগরের প্রতিচ্ছবিতে মালা ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপস্হিত বিশিষ্ঠজনেরা। বিধি মেনে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্যানিটাইজড করে সকলে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।বিভিন্ন সময়ে বিদ্যাসাগরের বাণী সমন্বিত উদ্ধৃতি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। 


শুরুতে স্বাগত ভাষনে সংস্হার সম্পাদক রামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন জন্মের দুশো বছর পরেও তাকে নিয়ে এত চর্চা ও গবেষণা আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত ছিলেন।জ্ঞান চর্চা করতেন সৃষ্টিশীল মানসিকতা থেকে। পান্ডিত্য জাহির করার উদ্দেশ্যে নয়। বিদ্যাসাগরের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,বিদ্যাসাগরের জীবনের প্রধান গৌরব তাঁর অজেয় পৌরুষ এবং অক্ষয় মনুষ্যত্ব।



ধর্মান্ধতা কুপমন্ডুকতা এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিরামহীন সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই তার এই অজেয় পৌরুষ এবং অক্ষয় মনুষ্যত্বলাভ।বাংলার শিক্ষা ও সমাজের ইতিহাসে ঈশ্বরচন্দ্র উন্মুক্ত ও উদার মননের প্রতীক। তাঁর বিদ্যা ওদয়া কোনটাই ভুলবার নয়। বাংলাভাষার প্রথম যথার্থ শিল্পী ছিলেন তিনি। তিনি আমাদের মাতৃভাষা সরল,সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে পরিবেশন করেছিলেন। বিদ্যাসাগর ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ। বাংলার আত্মসন্মান রক্ষার জন্য বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করা আজ বিশেষ প্রয়োজন। আকাশচুম্বী মন ও সাগরের মতো হৃদয়ের জন্য সারাজীবন তিনি দুস্হ মানুষের সেবা করেছেন,আমজনতাকে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন,নারীমুক্তির জন্য তাদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন,বিধবা বিবাহ প্রচলন করে তাদের দু:খ দুর করেছেন। বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধ করেছেন। তিনি সাধারণ হয়েও অসাধারণ কীর্তির স্বাক্ষর রেখেছেন।



 তিনি সারাজীবন যে অর্থ উপার্জন করেছিলেন দুহাতে তা সমাজ সংস্কারে ব্যয় করেছিলেন।একক উদ্যোগে তৈরি করেছিলেন মেট্রোপলিটন কলেজ যা পরে বিদ্যাসাগর কলেজ নামে পরিণত হয়। একাত্তর বছরের জীবনে এত কাজ করে গিয়েছেন যে সমালোচকরা তার সমালোচনা  করেছেন বা আজও করে চলেছেন। বাংলার নবজাগরণে রামমোহন  রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাম সর্বাগ্রে আলোচিত হয়।বিদ্যাসাগর বাংলার গর্ব। এই সময় দাড়িয়েও তিনিই আমাদের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা।জন্ম দ্বিশতবর্ষে বিদ্যাসাগরের আদর্শ ও শেখানো পাঠ আজীবন আমাদের মুল্য বোধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকবে। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞানকর্মী সুরেশ কুন্ডু,লেখক হরিদাস বালা,শিক্ষক অশোক কুমার মিত্র,আইনজ্ঞ দিলিপ বিশ্বাস। কবিতায় ছিলেন শিশু শিল্পী রাজনন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়া বসু,বীনা হালদার,মিলন বসু,লীলাবতি বিশ্বাস,আনন্দমোহন চট্টোপাধ্যায়,ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস,পথিক মন্ডল। দ্বৈত আবৃত্তিতে ছিলেন সুষ্মিতা সুকুল ও মৌমিতা কাজ্ঞিলাল। গানে সংগীত শিল্পী উৎপল দে,সঞ্চিতা চক্রবর্তী,হীরক মজুমদার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন রামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিবস বন্দ্যোপাধ্যায়।

0/Post a Comment/Comments