আমরা_দেশপ্রেমিক_আজাদী




সেরিনা বেগম

ক্ষুদ্র ও নগন্যার মসী চলেছে ঈমানের তরবারি নিয়ে। শয়তান আর বাতিল অন্ধ উন্মত্ততার লোহার চিরুনী ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলেছে দেশপ্রেমী মানুষের হৃদয়ের শিরা উপশিরা। মানুষ ও মানবতাকে গুড়িয়ে দিয়েছে ওদের কালো হাত। 
আমরা দেশপ্রেমী দরদী মানুষ, পরম কল্যাণকামিতায় সব কিছুই আলিঙ্গন করে নেব।
আমরা দেশপ্রেমী ভারতবাসী। জাতপাত বুঝিনা।
মুসলমানেরা ঈমান বোঝে। জাতপাতের ধারধারেনা। অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে জানে এঁরা।  মুসলিমদের রক্তে ভেজা এ ভারতের ভূমি।
১৮৫৭এর শহীদের তালিকায় চোখ ঘুরিয়ে দেখো প্রকাশ্য স্থানে  মুসলিম উম্মাহর মৃতদেহ শিকলে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। হায়দ্রাবাদের জমিন তার সাক্ষ্য বহন করে। শুধু সাক্ষ্য বহন করে না ছাত্র ছাত্রীদের বইয়ের পাতা।


চেয়ে দেখো ওয়াহাবি আন্দোলনে ১৮৭১ সালে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছেন আব্দুল্লাহ। হাফিজ নিসার আলী (তিতুমীর) যুদ্ধের ময়দানে কেমন করে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।
অগ্নি যুগে সিঙ্গাপুর বিদ্রোহে ১৯১৫সালে আব্দুর রেজা খান শহীদ।১৯১৭আলি আহমদ ফৈজাবাদির ফাঁসি।
রাউলাট বিরোধী আন্দোলন ও জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, অমৃতসর,১৩ই এপ্রিল ১৯১৯-কত মুসলিম উম্মাহর প্রাণ হয়েছে শহীদান- আবদুল গণি, আব্দুল করিম প্রভৃতিরা।
১৯২১এর অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে আব্দুল্লাহ খলিফা পুলিশি নির্যাতনে জেলে মৃত্যু হয়। আরো হাজারো শহীদের রক্তে ভেজা এ মাটি।
১৯৩০-৩২এর আইন অমান্য আন্দোলনে কত মুসলিম মায়ের বুক শূন্য হয়েছে! ১৯৩০ সালে আব্দুল গফফার খান পুলিশের গুলিতে
শহীদ হন।
১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে আব্দুল শুকর, শেখ আব্দুল আজিম বক্স ১৯৪৩ এ মেদিনীপুর জেলে মৃত্যু।
আজাদ হিন্দ ফৌজে খান মুহাম্মদ ১৯৪৫ সালে ১১ই জানুয়ারি যুদ্ধরত অবস্থায় মৃত্যু হয়। এমন শত শত শহীদের রক্তের স্রোত বয়ে যায়। হে অপশক্তিরা! চোখ বুলিয়ে নাও। আমরা দেশপ্রেমী দরদী মানুষ।
১৯৪৬ এ নৌবিদ্রোহে ইংরেজের রিভালভারের ও বন্দুকের গুলি যাদের কবরস্থ করল, তাঁরা হলেন দীন মুহম্মদ, আব্দুল আজিজ প্রভৃতিরা।



আমাদের নাকি তাড়াবে! আমরা ন্যায় সত্যের দিশারী। আবহমান কাল ধরে আমাদের রক্তে সত্যের বীজ বপন করা হয়েছে। ভয় নাই ভয়!
হিন্দু-মুসলিম-শিখ-জৈন-বৌদ্ধ এক সুতোয় গাঁথা প্রাণ। যেভাবে ইংরেজদের কবল থেকে মুক্ত করেছি মাতৃভূমি। ঠিক সেরূপেই এই অপশক্তির কবল থেকে উদ্ধার করব এই শস্য শ্যামলা সুন্দর মাতৃভূমি। 

রায়পুরের বাসিন্দা মাওলানা মহম্মদ আলি ও শওকত আলি বিলেত ফেরত নেতা। মৃত্যুর পূর্বে বলে যান পরাধীন ভারতের মাটিতে যেন তাঁদের কবর না দেয়া হয় যতদিন না ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। পাঁচ বার তাঁরা দীর্ঘ মেয়াদী জেল খাটেন। ১৯৩৫ সালে অসুস্থ অবস্থায় লন্ডনে ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে বক্তৃতা করতে করতে মৃত্যু বরণ করেন। জেরুজালেমে দেয়া হয়েছিল তাঁর কবর।

যাই হোক, এতো কথা বলতে বলতে কথার রেশ যে মিটে না। ইসলামের টানেই যে সৌন্দর্য কত সুমধুর তার বলার অপেক্ষা রাখে না। ইসলাম তার নিজ নিজ গুনেই বিকাশ লাভ করে। ইসলামের দুর্বার আকর্ষণেই মানুষ তার কাছে ছুটে আসে। ইসলামের রবি রশ্মি নিজ ঐশ্বর্যেই বিশ্বের বুকে বিকীর্ণ হয়েছে। আজ সেই ইসলাম
আর মুসলমান বিতাড়নের ষড়যন্ত্র?

নাহ্, তা কোনোদিন তাদের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ করতে পারবে না ওই অপশক্তির অপকর্ম। ইসলামের ইতিহাস সেকথাই প্রমাণ করে।

ছোট্ট একটি দৃশ্য উপস্থাপন করলাম-      স্বাধীনতাকামি   মাল্টার বন্দী শাইখুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান (রহ) জেল থেকে ফিরে বললেন, "আমি মাল্টার জীবনে দুটি  শিক্ষা লাভ করেছি।" তিনি উপস্থিত জনগণকে লক্ষ করে বললেন-"জেলখানার নির্জনতায় দেখেছি সারা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অধঃপতনের দুটি কারণ(১) কুরআন ছেড়ে দেওয়া।
(২) পারস্পরিক মতবিরোধ এবং গৃহযুদ্ধ।
এমন উপলব্ধিকে স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহ জেগে উঠো। বিপ্লব আনো। নতুন সূর্যের উদয় হোক। সব ভেদাভেদ ভুলে যাও।

আজ সময় এসেছে সেই বিপ্লব আনার। যেখানে প্রতি জনে জনে কুরআনের আহ্বানে সাড়া দেবে আর মতবিরোধ ভুলে সাম্যের গান গাইবে।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670