চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দূরাবস্থার জন্য রাজ‍্যসরকার দায়ী,

                          


 ্


       নন্দ দুলাল দাস 


র মেয়ে উমার মত বোধনের মধ্য দিয়ে  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ক্ষমতায় আসীন করেছিলেন বাংলার মানুষ। মমতার সেই বিজয় রথে সামিল হয়েছিলেন বাংলার আপামর জনসাধারণ। শামিল হয়েছিলেন কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, প্রান্তিক চাষী, ভাগচাষী, মতুয়া, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত সহ প্রায় সমস্ত সম্প্রদায়েরই মানুষ। সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশও সওয়ারি হয়েছিলেন তাঁর বিজয় রথে।অথচ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য D.A. থেকে তিনি তাদের শুধু বঞ্চিতই করেননি,তাদেরকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছেন। পূর্বতন বাম আমলের দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটবে এই আশায় বুক বেঁধে রাজ্য সরকারের অস্থায়ী এবং স্থায়ী কর্মচারীদের একটি বড় অংশও মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।



 সর্বশিক্ষা মিশনের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রায় 98 শতাংশ মানুষের সমর্থন ছিল তাঁর সঙ্গে। শিক্ষাবন্ধু, পার্শ্বশিক্ষক, এস.এস.কে, এম. এস.কে, এ.এস, অতিথি শিক্ষক, আশা, কম্পিউটার শিক্ষক, কারিগরি শিক্ষক, রন্ধন কর্মী, স্পেশাল এডুকেটর,  আই.সি.ডি.এস সহ প্রায় প্রতিটি সেক্টরের সমস্ত কর্মচারীবৃন্দই তাঁর আশীর্বাদের থালা ভরিয়ে দিয়েছিলেন। 



মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে যাবতীয় বঞ্চনার অবসান ঘটাবেন। অথচ এক সময় যারা তাকে বোধনের মধ্য দিয়ে মাতৃরূপে ক্ষমতায় আসীন করেছিলেন, আজ তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়ে তাদের ঘরে দীর্ঘ 9 বছর ধরে বিসর্জনের বাজনা বাজিয়ে চলেছেন। 



উপরোক্ত কর্মচারীদের প্রায় সকলেরই আজ নিদারুণ অবস্থা। এঁদের মধ্য সবচেয়ে করুন অবস্থা শিক্ষাবন্ধু সমাজের। শিক্ষাবন্ধু সমাজের যন্ত্রণার ফাইল নয় নয় করে বহুবারই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি শিক্ষাবন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়াননি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত "সমকাজে সমবেতন" নীতিকেও অগ্রাহ্য করে চলেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে ঘৃণ্য রাজনীতি করেন। বামেদের মুখ থেকে কেড়ে নেওয়া গরীব দরদী সেজে গরিব মানুষের কথা বলে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি গরিব মানুষদের ঘৃণা করেন। 



তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ নিম্নোক্ত সমস্ত কর্মচারীবৃন্দদের (শিক্ষাবন্ধু, পার্শ্বশিক্ষক, আশাকর্মী, এসএসকে, এম এস কে, আইসিডিএস, এ.এস, কম্পিউটার শিক্ষক, কারিগরি শিক্ষক, স্পেশাল এডুকেটর, অতিথি শিক্ষক, রন্ধন কর্মী, প্রভৃতি) তিনি অত্যন্ত কম বেতনে খাটিয়ে নিচ্ছেন। এরা মূলত কম বেতন প্রাপ্ত সরকার পোষিত সরকারি কর্মচারী।মমতা এদের এতই কম বেতন দেন যে তারা সংসার প্রতিপালন করতে পারেন না অর্থাৎ এক কথায় এরা প্রত্যেকেই কম বেতনের গরিব সরকারি কর্মচারী। অথচ তিনি কথায় কথায় গরিব মানুষের কথা বলেন এবং গরীব দরদী সাজার চেষ্টা করেন।



 তিনি যদি সত্যিই গরিব মানুষকে ভালোবাসতেন এবং গরীব মানুষের বন্ধু হতেন তাহলে দীর্ঘ নয় বছর ধরে এই সরকারি গরিব কর্মচারীদের জন্য কিছু করলেন না কেন ? আবার তাঁর আমলেই গরীব আরো গরীব হয়েছে এবং ধনী আরও ধনী হয়েছে। আর এই গরীব শ্রেণি যখন তাদের ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ের জন্য সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি তাদের ডিভাইড এন্ড রুল' পলিসি গ্রহণ করে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া আটকে দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছেন, বিনা বিচারে আটক করে জেলে পুরেছেন, মিথ্যা মামলা দিয়েছেন, অর্থাৎ পুলিশের ভয় দেখিয়ে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। আর এক্ষেত্রে তাঁর দোসর হয়েছেন কেন্দ্রের মোদি সরকার। কারণ উপরোক্ত প্রায় সকলেই কোনো না কোনো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনস্থ কর্মচারী, অর্থাৎ এই কর্মচারীদের বেতনের একটি বড় অংশ বহন করেন কেন্দ্রীয় সরকার, কিন্তু দুঃখের বিষয় এক্ষেত্রে কেন্দ্রের মোদি সরকারও সমানভাবে দায়ী। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কোনো খোঁজ খবর রাখেন না। কেন্দ্রীয় প্রকল্প হওয়া সত্বেও রাজ্যগুলি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছেন, অথচ মোদি সরকার সেটা বসে বসে দেখছেন, তিনি কোন সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করছেন না। তিনি অর্থাৎ মোদিজী প্রায় প্রতিদিনই একবার করে এক দেশ এক আইনের বুলি আওড়ান। কেন্দ্রের দেওয়া অনুপাতের টাকা রাজ্য সরকারগুলি বেমালুম হজম করে দিচ্ছেন ( বিশেষ করে মমতা ) অথচ কেন্দ্র সরকার কোনো খোঁজই রাখেন না। তাই আগামী 7 ও 8 অগাস্ট '20 উপরোক্ত সমস্ত কর্মচারীবৃন্দের আহবানে জাতীয় অর্থাৎ সর্বভারতীয় ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। 



সর্বভারতীয় পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দেড় কোটি মানুষ এই ধর্মঘটে অংশ নিতে চলেছেন। এক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এই বিরাট অংশের মানুষ যদি মনে করেন তাহলে তারা যেমন কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটাতে পারেন তেমনি রাজ্যের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারেরও পতন ঘটাতে পারেন। মোট 16 দফা দাবির ভিত্তিতে এই ধর্মঘট। মূল দাবি গুলি হল- ১. ন্যূনতম বেতন 21 হাজার টাকা করতে হবে। ২. ন্যূনতম পেনশন 10000 টাকা করতে হবে। ৩. চাকরিতে যোগদানের দিন থেকে ইপিএফ চালু করতে হবে। ৪. কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবার থেকে একজনকে চাকরি দিতে হবে। ৫. বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতিতে উপরোক্ত প্রায় সকলেই সামনে থেকে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়ছেন, এক্ষেত্রে মৃত্যু হলে 50 লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবার থেকে একজনকে চাকরি দিতে হবে ইত্যাদি।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670