সরকারি ছাড় পেলেও পর্যটকের দেখা নেই দিঘায়,মাছি তাড়াচ্ছে হোটেলগুলি


 রুপম দাস,দিঘা:

 সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস রয়েছে অথচ পর্যটক নেই। দিঘায় এর আগে এই দৃশ্য কে কবে দেখেছেন মনে করতে পারবেন না। কিন্তু অমাবস্যার প্রভাবে গত কয়েকদিন দিঘায় জলোচ্ছ্বাস দেখা গেলেও পর্যটকের দেখা মেলেনি। করোনা সংক্রমনের গ্রাফ যতই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পর্যটকদের মধ্যে ততই দিঘায় যাওয়ার ইচ্ছা সংকুচিত হয়েছে। এই মুহূর্তে দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমনি ও তাজপুরের কোথাও পর্যটক নেই বললেই চলে। অতি উৎসাহী জনাকয়েক পর্যটককে অবশ্য দিঘার আনাচে-কানাচে ঘুরতে দেখা গেছে। তবে সেটা নেহাতই হাতেগোনা মাত্র। গত ৮ জুন সরকারি নির্দেশে দিঘার ৩০ শতাংশ হোটেল খোলা শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় আরাধনা নারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানোয় অচীরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে দিঘার হোটেলগুলি পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও করোনার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে পর্যটকদের। এই পরিস্থিতিতে কেউই আর দিঘা মুখী হতে চাইছেন না।যদিও দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসক সুজন দত্ত জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত সুরক্ষা বিধি মেনেই হোটেল গুলিকে খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


পর্যটকরা এলে তাঁদের লাগেজ থেকে শুরু করে যানবাহন সবকিছুই স্যানিটাইজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মাল স্ক্রীনিং ব্যবস্থা রাখা এবং হোটেলের ঘর নিয়মিতভাবে স্যানিটাইজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও পর্যটকের অভাবে হোটেল বন্ধ রাখতে হচ্ছে হোটেল মালিকদের। তাঁরা জানান লকডাউন উঠলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো যায়নি দিঘাকে। হোটেল খুলে রাখলে সবকিছুর খরচ বহন করতে হচ্ছে। কিন্তু পর্যটক যদি না আসেন তাহলে শুধু শুধু খরচ বাড়িয়ে লাভ কি? একই কারণে বেশিরভাগ হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদেরও ছুটি দিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। যার ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন অসংখ্য হোটেল কর্মচারী। দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সুরক্ষার বিষয়টিকে যথেষ্টই গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। সামান্য কয়েকজন পর্যটক যাঁরা দিঘায় এসেছেন তাঁরা জানিয়েছেন এই মুহূর্তে দিঘা সম্পূর্ণভাবে দূষণ হীন। হোটেলও অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তাই করোনা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত নন। পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেলে দিঘার এই অনাবিল সুন্দর রূপ আর দেখতে পাওয়া যাবে না। তাঁরা জানান খুব বেশি না হলেও সামান্য জলোচ্ছ্বাসের আনন্দ তাঁরা উপভোগ করেছেন।






0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670