যৌতুক না দিতে পারায় মৃত্যু পূর্ব মেদিনীপুরের এক গৃহবধুর





সৌমেন সেন, এগরা




 বিয়ের পর থেকে মোটা টাকা পনের দাবী জানিয়ে নিয়মিত অত্যাচার চালানো হত এক গৃহবধূর ওপর। একাধিকবার এই নিয়ে সালিশ বসেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই গৃহবধূকে প্রাণে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।
এই র্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানার সাটিলাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতপাটিয়া গ্রামে। মৃত গৃহবধূর নাম চন্দনা মালি। এই ঘটনায় মৃতার বাবা থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সূত্রের খবর, দিঘার পদিমার বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র জানার মেয়ে চন্দনার সঙ্গে প্রায় বছর পাঁচেক আগে সাতপাটিয়া গ্রামের মিলন মালির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মেয়েটির পরিবার থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পনের দাবী জানাতে থাকে মিলনের পরিবার।
টাকা দিতে না পারায় মেয়েটির ওপর চলত লাগাতার অত্যাচার। এই নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিস হয়েছে বলেও দাবী চন্দনার পরিবারের। মাঝে একবার ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলার চেষ্টাও হয়েছিল বলে দাবী।



 
পরে সবপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে মেয়েটিকে ভালোভাবে রাখা হবে জানিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তারপরেই পুনরায় শুরু হয় অত্যাচার। গত ২০ জুলাই মেয়েটির বাপের বাড়িতে প্রতিবেশীরা খবর পাঠায় তাঁদের মেয়ের কিছু একটা হয়েছে।

মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় মৃত্যু হয়েছে চন্দনার। মৃতের বাবার দাবী, মেয়ের ডানদিকের গালে দাগ রয়েছে। তাঁকে মেরে হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে বলে অভিযোগ জানানো হয় গত ২৩ জুলাই।



 
এরপরেই অভিযুক্ত স্বামী মিলন ও তাঁর বাবা সত্যরঞ্জনকে গ্রেফতার করেছে রামনগর থানার পুলিশ। ধৃতদের কাঁথি মহকুমা আদালতে নিয়ে গেলে বিচারক তাঁদের ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। বাকী মৃতের দেওর ও শ্বাশুড়ি পলাতক। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670