কৃষিপণ্য বানিজ্য অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহারের দাবীতে অখিল ভারতীয় কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতি-র জেলা শাসককে ডেপুটেশান।




সুদীপ ঘোষ ঝাড়গ্রাম 

*ঝাড়গ্রাম, ২৫ জুন, ২০২০:* আজ অখিল ভারতীয় কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতি (ঝাড়গ্রাম ইউনিট) এর পক্ষ থেকে দিবাকর হাঁসদা (সারা ভারত কৃষক সভা), মনোরঞ্জন ঘোষ (সারা ভারত কৃষক সভা), সারা ভারত অগ্রগামী কিষান সভা, অশোক মাহাত (জয় কিষান আন্দোলন) ও  নিরঞ্জন বেরা (সংগ্রামী কৃষক সমিতি) ঝাড়গ্রামের জেলা শাসককে  দাবী সনদের স্মারকলিপি জমা দেন। এছাড়া দাবী জানান হয় আমফান ঘূর্ণিঝড়কে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করার। 




জেলা শাসককে জানান হয় যে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার যে কৃষিপণ্য বানিজ্য অর্ডিন্যান্স জারী করেছে যাতে স্বাধীনতার পর কৃষি ও কৃষকদের এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। লকডাউন সংকটের সময় কালে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় অর্ডিন্যান্স চাপিয়ে দিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে কর্পোরেট পুঁজিপতিদের দখলদারী কায়েম করা হলো। ওদের হাতে কৃষি পণ্যের ব্যবসা বানিজ্যের সমগ্র ব্যবস্থাকে তুলে দেওয়া হলো। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ সহ কৃষকের স্বার্থরক্ষায় যতটুকু সরকারী বিধি ব্যবস্থাগুলি ছিলো সেগুলিকে উঠিয়ে দেওয়া হবে,ফলে কৃষকদের কর্পোরেট পুঁজিপতিদের গোলামে পরিনত করা হবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধনের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মজুত ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উঠিয়ে দেওয়ার কারনে বড় ব্যবসায়ীরা যত খুশী পণ্য মজুত করতে পারবে। কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে তারা নিজেদের সুবিধা মতো কৃষি পণ্যের দাম বাড়াবে, অথচ চাষীরা তাঁদের রক্ত ঘামে উৎপাদিত ফসলের লাভজনক দাম পাবে না। দেশী বিদেশী পুঁজিপতি-ব্যবসায়ী-সরকারী আমলা- অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের চক্র কৃষিপণ্যের ব্যবসা থেকে মুনাফার পাহাড় তৈরী করবে। কৃষিপণ্য বাজার কমিটি আইন (APMC) তুলে দেওয়ার ফলে কৃষিপণ্যের ফাটকাবাজী মজুতদারী বাড়বে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলির যে অধিকার রয়েছে অর্ডিন্যান্সে তাকে খর্ব করা হয়েছে। কৃষি পণ্যের বাজার বা কিষাণ মান্ডিগুলি সীমিত ভাবে হলেও চাষীদের দরকষাকষি ও ফসলের সরকারী ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত। সেই ব্যবস্থাটা তুলে দিয়ে চাষীদের চরম লোকসান ও ঋণফাঁদের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। ব্যবসায়ী ও পু্ঁজিপতিদের চুক্তিচাষের অবাধ অধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে ঘুরপথে কৃষিজমি থেকে কৃষকদের উচ্ছেদ করে চালু করা হবে কর্পোরেটদের জমি গ্রাস অভিযান।  বাস্তবে ওরাই কৃষি উৎপাদনকে নিয়ন্ত্রন করবে।  ফলে আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হয়ে পড়বে মারাত্মক ভাবে বিপন্ন। বিগত বছরগুলিতে আমাদের দেশে কৃষিপণ্যের আমদানী ক্রমশঃ রপ্তানির থেকে বেড়ে চলেছে। আগামীদিনে সেটা আরও বেড়ে যাবে। উন্নত দেশের অত্যধিক পরিমানে কৃষি ভর্তুকিযুক্ত পণ্য আমাদের দেশের কৃষি পণ্যের বাজারকে নষ্ট করে দেবে। ফলে নতুন নিয়ম বিধির মধ্য দিয়ে চাষীদের ফসলের ভালো দাম পাওয়ার যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। সমগ্র কৃষি ক্ষেত্রে ৫০-৬০ শতাংশ ছোট ভাগ চাষী- চুক্তি চাষীরা রয়েছে। চুক্তি চাষের প্রভাবে এদের জীবন জীবিকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কৃষিমজুরদের জীবিকাও  হয়ে উঠবে বিপন্ন। তীব্রতর হয়ে উঠবে গ্রামীণ বেকারী। সব মিলিয়ে এই কৃষি সংস্কারে লাভবান হবে বড় বড় কোম্পানিরা।  তৈরী হবে কোম্পানী রাজ।
এ রাজ্যে আমপান ঘূর্নিঝড় কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জীবন জীবিকা বিরাট এক ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।  ত্রাণ ও পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার চরম ব্যর্থ। লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকরা  অমানবিক দূর্দশার মধ্যে রয়েছে। তাঁদের ঘরে ফেরানো, স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা, সুরক্ষা দেওয়া,কাজ খাদ্য সরবরাহ করা প্রভৃতি প্রশ্নে চলছে চুড়ান্ত সরকারী অব্যবস্থা। পিএম কিষাণ নিধির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের বছরে তিন দফায়  ৬ হাজার টাকার যে সহায়তা প্রকল্প চালু করেছে এ রাজ্যে সেটাকেও কার্যকরী করা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে,যা কৃষকদের মারাত্মক  ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

নিম্নলিখিত দাবীগুলি পেশ করা হয়:  

১)      কৃষি বানিজ্য অর্ডিন্যান্স বাতিল করতে হবে।
২)      অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধন করে কালোবাজারী, মজুতদারীকে বৈধ করে তোলা চলবে না।
৩)      কৃষকের ফসলের লাভজনক দাম গ্যারান্টি করতে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। উৎপাদন খরচের দেড়গুন দামে গ্রামে ক্যাম্প করে  প্রকৃত চাষীদের থেকে ফসল কেনা সুনিশ্চিত করতে হবে।
৪)      চুক্তিচাষের নামে কৃষিকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া চলবে না।
৫)      সমস্ত  কৃষকদের সব ধরনের কৃষিঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৬)      ফসলের সরকারী সংগ্রহ ও গণবন্টনকে উঠিয়ে দিয়ে  কর্পোরেটদের হাতে কৃষিবানিজ্যকে তুলে দেওয়া চলবে না।
৭)      সুপার সাইক্লোন আমফানকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করতে হবে। দ্রুত ও যথাযথ ত্রাণ ও পূনর্বাসন প্যাকেজের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮)      লকডাউন এবং আমপান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কৃষকদের এ্যাকাউন্টে ২৫ হাজার টাকা লকডাউন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  ভাগ ও চুক্তি চাষীরা যাতে সমস্ত রকম সরকারী সুবিধা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
৯)      বনাধিকার আইন কার্যকরী করে আদিবাসী ও বনবাসীদের জল জঙ্গল জমির অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০)   এ রাজ্যে পিএম কিষাণ প্রকল্পের ৬ হাজার টাকা ও কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ৫ হাজার টাকা প্রতিটি কৃষককে দিতে হবে।
১১)   কৃষিমজুর ও গ্রামীণ গরীবদের জব কার্ডে   ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
১২)   কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের কাজ গ্রামে চালু করতে হবে। কৃষিকাজ কে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ২০০ দিনের কাজ ও ৬০০ টাকা মজুরী দিতে হবে।
১৩)   বিদুৎ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণ করে কৃষিক্ষেত্রে মাশুলবৃদ্ধি ও রাজ্যের অধিকার খর্ব করা চলবে না।
১৪)   জঙ্গলে শালপাতা এবং কেন্দু পাতা তুলতে গেলে কোন বাধা দেওয়া যাবে না।
১৫)   হাতির দ্বারা  ফসল নস্ট সহ ঘর ভাঙার ক্ষতিপূরণ দ্রুত প্রদান করতে হবে।
১৬)   তপশিলী জাতি এবং উপজাতিদের গ্রামে গ্রামে শিবির করে জরুরী ভিত্তিতে শংসাপত্র প্রদান করতে হবে।
১৭)   ব্লক ভিত্তিক একটি করে সরকারি উদ্যোগে কোল্ড স্টোরেজ তৈরী করতে হবে।
১৮)   যারা এখনো ডিজিটাল রেশন কার্ড পায়নি অবিলম্বে তাদের ডিজিটাল রেশন কার্ড দিতে হবে।
১৯)   ঝাড়গ্রাম জেলার বন্ধ LAMPS গুলিকে পুনরায় চালু করতে হবে।
২০)   ঝাড়গ্রাম জেলার সকল সমবায় গুলিকে পুনরায় সক্রিয় করতে হবে।
২১)   জেলার সকল জব কার্ড গ্রাহকদের ১০০ দিনের কাজ দিতে হবে।
২২)   প্রতি পঞ্চায়েতে শিবির করে ,

0/Post a Comment/Comments

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com