ভারত-চীন সীমান্তে নিহত বীরভূমের শহীদ রাজেশ ওরাংকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপচে পড়ল ভীড়




সেখ ওলি মহম্মদ, মহম্মদবাজার, বীরভূম 




সেনাদের গাড়ীতে ঘরের ছেলে ঘরে পৌঁছালো কফিন বন্দি হয়ে! তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বীরভূম জেলার মানুষ ভেঙে পড়েছেন।
আজ বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার ব্লকের বেলঘড়িয়া গ্রামে শুধু কান্নার রোল। 



ভারত-চীন সীমান্তে নিহত শহীদ রাজেশ ওরাংকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভীড় উপচে পড়ল। শুধু সাধারণ মানুষ নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রী থেকে শুরু রাজ্যের মন্ত্রীরাও এদিন উপস্থিত ছিলেন শহীদ রাজেশ ওরাংকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় শহীদ জওয়ান রাজেশ ওরাং-এর দেহ আনা হয়েছিল দুর্গাপুরের পানাগড় বায়ুসেনার বেস ক্যাম্পে। তারপর সেখান থেকে তাঁর কফিন বন্দি দেহ পানাগড় আর্মি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 



আজ সকালে সেখান থেকে ভারতীয় জওয়ানরা শহীদ রাজেশের পার্থিব শরীর নিয়ে আসে তাঁর মাতৃভূমি মহম্মদবাজারের  বেলঘড়িয়া গ্রামে। দেহ সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে শেষ দেখা দেখতে মানুষের ভীড় উপচে পড়ে। শহীদ রাজেশের পার্থিব শরীর নিয়ে আসার আগে থেকে বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাজ্যের মন্ত্রী থেকে বিভিন্ন আধিকারিক সকলে ফুলের তোড়া দিয়ে শহীদ রাজেশ ওরাংকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গান স্যালুট এর মধ্য দিয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এদিন উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা , বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং, ডি. এস. পি (হেড কোয়ার্টার ) কাশীনাথ মিস্ত্রী সহ জেলার পুলিশ আধিকারিক ও ভারতীয় সেনার জওয়ানরা। তাছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ড. আশিষ ব্যানার্জী, মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, এস. আর. ডি. এ. চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল, বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিনহা, বীরভূম জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি নন্দেশ্বর মণ্ডল, সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতী সাহা, দুবরাজপুরের  বিধায়ক নরেশ চন্দ্র বাউরী, নলহাটির বিধায়ক মৈনুদ্দিন শামস, বিজেপি বীরভূম জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা লকেট চ্যাটার্জী, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ, বিজেপির এসটি মোর্চার রাজ্য সভাপতি খগেন মুর্মু, কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি সঞ্জয় অধিকারি, বীরভূমের হাসন কেন্দ্রের একমাত্র কংগ্রেসের বিধায়ক মিল্‌টন রশিদ সহ হাজার হাজার মানুষ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন মঙ্গলবার  ভারত-চীন নিয়ন্ত্রণরেখায় শুরু হয় তীব্র লড়াই । আর এই লড়াইয়ে শহীদ এক কর্ণেল সহ ২০জন ভারতীয় জওয়ান। পাল্টা প্রত্যাঘাতে হত ৪৩ জন চীনা সেনা। নিহত ভারতীয় জওয়ানদের মধ্যে রাজেশ ওরাং এর  বাড়ি বীরভূমের মহঃম্মদ বাজার থানার ভুতুরা পঞ্চায়েতের শেওড়াকুড়ির বেলঘড়িয়া গ্রামে। বছর পাঁচেক আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রাজেশ। চাকরী পেয়ে কিছুটা সচ্ছল হচ্ছিল পরিবার। পাকা বাড়ি তৈরি হলেও অসম্পূর্ণ। ইচ্ছে ছিল ছুটিতে এসে বোন শকুন্তলার বিয়ে দেবেন। কিন্তু এই ঘটনায় নিভলো রাজেশের জীবন দীপ। ঘরের ছেলে আর ঘরে ফিরলো, কিন্তু কফিন বন্দি হয়ে। গ্রামে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670