খবরের জেরে সাহায্যে পেল রামকুমার পরিহারের পরিবার




মালদা১৫ জুন: খবরের জেরে একের পর এক সাহায্য পেতে শুরু করল মৃত অটো ড্রাইভার রামকুমার পরিহারের অসহায় পরিবার। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা , ব্যবসায়ীও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা সংবাদ মাধ্যমে খবর পেয়ে মৃত রামকুমার পরিহারের পরিবারের হাতে সাহায্য তুলে দিল।
এদিন সকালে চাঁচল ডেভলপমেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে চাল ডাল আলু ও বস্ত্র এবং আর্থিক সাহায্য তুলে দেয়া যায় রামকুমার বাবুর স্ত্রীর হাতে। সংস্থার পক্ষে সেরাতুল হক চৌধুরী জানান আমরা প্রতি নিয়ত এলাকার দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে আছি।



আপদে-বিপদে সবসময় আমরা এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করি।সংবাদমাধ্যমে রামকুমার বাবুর পরিবারের অসহায় তার কথা শুনেই আমরা এলাকায় ছুটে এসেছি আজ আমরা ওনার স্ত্রীর হাতে কিছু খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য তুলে দিলাম আগামী তো আমরা এই পরিবারের পাশে থাকবো।

অন্যদিকে ভয়েস অফ চাঁচল নামক আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এদিন এই পরিবারটিকে একমাসের মুদিখানা সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেন। সংস্থার পক্ষ থেকে শিভম পান্ডে জানান আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে অটোচালক রামকুমার পরিহারের মৃত্যুর কথা শুনতে পায় এবং তার পরিবারের অসহায় তার কথা শুনে আজ আমরা এলাকায় এসেছি। আজ এই পরিবারের হাতে আমরা এক মাসের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী ও কিছু আর্থিক সাহায্য করলাম।এদের বাড়ি ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ প্রশাসনের উচিত এদের পাশে অবশ্যই দাঁড়ানো।

অন্যদিকে খবর পেয়ে ছুটে যান তৃণমূলের জেলা যুব সহ-সভাপতি বুলবুল খানের প্রতিনিধি মনোতোষ ঘোষ। এদিন তিনি পরিবারটির হাতে খাদ্য ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। তিনি জানান জেলা সহ-সভাপতি হরিশ্চন্দ্রপুর এর বাইরে থাকায় তার নির্দেশেই আজ এই অসহায় পরিবারটিকে সাহায্য করা হলো।আমি তো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু করা যায় কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আজ সকালে রামকুমার বাবুর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মতিউর রহমান। তিনি পরিবারটি হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন। ভবিষ্যতে পরিবারটির পাশে থাকবেন এবং ওদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারটা উনি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য দিন পাঁচেক আগে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় স্থানীয় অটো ড্রাইভার রামকুমার পরিহারের। লকডাউন এর জেরে কাজ হারিয়ে বসে ছিলেন। জুট ছিল না খাওয়া থেকে চিকিৎসার পয়সা। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে যান তিনি দিন পাঁচেক আগে মারা যাওয়ায় পাঁচ নাবালক সন্তান-সন্ততিকে নিয়ে চরম অসুবিধায় পড়েন তার স্ত্রী সান্তনা পরিহার। একদিকে অর্থসংকট অন্যদিকে পরিবারের খাবার জোগানোর সমস্যা। এই খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই এগিয়ে আসে বিভিন্ন সংস্থা রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী। বাড়িয়ে দেয় সাহায্যের হাত।
স্বামীকে হারিয়ে সন্তান-সন্ততিদের কে নিয়ে চরম অসুবিধায় পড়ে ছিলেন স্ত্রী সান্তনা পরিহার। বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্যের হাত এসে পৌঁছায় তিনি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে সংবাদমাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেন নি তিনি।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670