মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুর এ করোনা আক্রান্ত ৪




 মালদা; ৯ এপ্রিল:

 রাজ্যে হু-হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের গাছাড়া মনোভাবের জেরে উঠে যাচ্ছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলো। 

এরইমধ্যে বুধবার সকালে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায আজমীর শরীফ থেকে প্রায় 240 জন পুণ্যার্থী ও পরিযায়ী শ্রমিক এলাকায় প্রবেশ করে। 

মালদা জেলাতে এদের লালা রস সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই পরীক্ষার রিপোর্ট আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার হরিশচন্দ্রপুর এলাকায় আরও ৪ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ল। শুক্রবার রাত আটটায় যে ৯৩টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে তার মধ্যে ৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ।




আক্রান্ত ওই চারজন মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা। তবে তাঁদের বিস্তারিত বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি। মালদা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ওই ৪ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে শুক্রবার রাতেই তাঁদের পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হতে পারে।

এই নিয়ে মালদা জেলায় মোট ৭ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ল। এর মধ্যে প্রথম আক্রান্ত মানিকচকের পরিযায়ী শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতালে। আরেকজন এদিন সুস্থ হয়েছেন। বাকি একজন পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি।

এদিন হরিশ্চন্দ্রপুরে যে ৪ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে তাদেরও পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে খবর। এদিকে, মানিকচক ও রতুয়াকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, তার বাইরে হরিশ্চন্দ্রপুরে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য কর্তারা। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য দপ্তরের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

মালদা মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, এদিন যাদের করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে, তাঁরা দুদিন আগে রাজস্থানের আজমের থেকে সরকারি উদ্যোগে বাড়ি ফিরে এসেছেন।
এদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় নতুন করে চারজনের করণা পজিটিভ পাওয়া যাওয়াতে এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা গিয়েছে। এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক ও  রাজ্যে বসবাসকারী দের অবাধে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় ঢোকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর চরম ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসী। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার উঠিয়ে দেওয়ার পেছনে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার জন্য রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই দেখছেন না স্থানীয় মানুষেরা। এ প্রসঙ্গে মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা মোঃ শামীম জানান এলাকার নেতারা শুধু ভোটের রাজনীতি করেন। নিরাপত্তার দিক তারা দেখেন না। এভাবে করেন করেন্টিন সেন্টার বন্ধ করে আখেরে গ্রামের মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিল এলাকার নেতারা। আমরা আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ায় আমাদের গ্রাম সিল করে দিলাম। 




যাতে এই গ্রাম থেকে ওই গ্রামে কেউ যেতে আসতে না পারে।
ওই গ্রামের অন্য এক বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানালেন বাইরে থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা কোনরকম হোম করেন্টিন সিস্টেম মানেননি। এলাকায় এসে এরা যত্রতত্র ঘুরে বেড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষের কোন নিষেধাজ্ঞা কেন করেনি।

 আমরা অনেকবার বুঝিয়েছিলাম কিন্তু কোন কাজ হচ্ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন এইভাবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার উঠিয়ে দিয়ে খুব ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার স্থানীয় মানুষরা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হবে।

0/Post a Comment/Comments