আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক🏵*




*✍কম‌লে‌শের কলম✍*
=================
*মানুষকে বিবেকসম্পন্ন ও বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন জীব হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। আমরা তা-ই জেনেছি জন্মের পর থেকে। অন্যান্য প্রাণী বা সব কিছু থেকে আমাদের আলাদা করা হয় বিচার-বুদ্ধির জন্য, বিবেকের জন্য। মানসিক অসুস্থতায় ভোগা মুষ্টিমেয় কিছু রোগীকে বাদ দিলে আমরা সবাই বিবেকবানএ কথা জোর দিয়ে বলা যায়। যে বা যাঁরা অন্তত ভালো-মন্দ কিংবা উচিত-অনুচিত নিজে নিজে আলাদা করতে পারেন, তাঁকে বা তাঁদেরকেই বিবেকবান মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি, কে বিবেকবান আর কে বিবেকহীন তা বলা কঠিন? উচিত-অনুচিতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব। কারণ আপনি নিজেকে প্রশ্ন করাটা উচিত মনে করেছেন। এ তত্ত্ব থেকে ঢালাওভাবে সবাই বিবেকধারী একেকজন মানুষ; কিন্তু প্রশ্নটা হলো, আমরা কি সুস্থ বিবেকের অধিকারী? আবার অনেক সময় দেখা যায়, আবেগের কাছে বিবেক মূল্যহীন হয়ে পড়ে। ভালো-মন্দের বিচারক্ষমতা দ্বারা যে বিবেক নির্ধারিত হয় সে ব্যাপারে সবাই একই বিন্দুতে থাকবেন নিঃসন্দেহে তা বলা সম্ভব। ভিন্ন বিন্দুতে থাকবেন ভালো-মন্দ আলাদা করা নিয়ে অর্থাৎ কোনটা ভালো ও কোনটা মন্দ সেটা নির্ধারণে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে। এ ভিন্নতা হতে পারে ব্যক্তি, সমাজ, এলাকা, সময়, ঘটনা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। বিবেকের কাজ হলো কোনো কিছুর ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা, সক্ষমতা-অক্ষমতা, নীতির কাছে সঁপে দিয়ে বর্তমানকে ভিত্তি ধরে ভবিষ্যৎ ভাবনাকে বিচার করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানবসত্তাকে সহযোগিতা করা; কিন্তু আসল সিদ্ধান্তে আসতে হবে সত্তার নিজেকেই। আমরা প্রত্যেকেই দশের শান্তির কথা বলি, মিলনের কথা বলি, উজ্জ্বলতার কথা বলি, নীতির কথা বলি, সত্যের কথা বলি, সাফল্যের কথা বলি, এমনকি এসব কথা শুনতেও পছন্দ করি। কাজের বেলায়ও এসবের তরে নিজেকে সঁপে দিতে ভালো লাগে।*

*কিন্তু আমরা কি বিবেক নিয়ে ভাবি? এখন আমরা ব্যস্ত আছি কে কতটা নিচে নামতে পারি সেই প্রতিযোগিতায়। কী পরিমাণ নৈতিক স্খলন হচ্ছে প্রতিদিন তা আমরা ভেবে দেখি না, জীবনযাত্রার দৌড়ে সবাই শামিল, কে কাকে কিভাবে পেছনে ফেলে নিজে এগিয়ে যাব, তা নিয়েই ব্যতিব্যস্ত, বিবেকের স্খলন হচ্ছে তা আমাদের কাছে ব্যাপার না। যেকোনো মূল্যে সম্পদশালী হতে হবে। আমাদের কাছে থাকা মানবীয় গুণাবলি বিসর্জন দিচ্ছি প্রতিনিয়ত, সম্পদ আহরণের জন্য, ভোগ-বিলাসের জন্য। আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নীতি-নৈতিকতা, লোপ পাচ্ছে আমাদের ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা। মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বিলীন হয়ে যাচ্ছে কালের গর্ভে, প্রেম-ভালোবাসা ও দয়া-মায়া ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মধ্য থেকে। আমরা কিন্তু মানবীয় গুণাবলি হারিয়ে ক্রমেই মানুষ হিসেবে নয়, হিংস্র প্রাণীর মতো দানবীয় ও নিষ্ঠুর আচরণ করছি। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? আমরা যত শিক্ষিত হচ্ছি, আমাদের মধ্যে মানবতাবোধ যেখানে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, সেখানে মানবতাবোধ কমছে, প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। আমাদের মধ্যে মানবতাবোধ ও মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কেন? শিক্ষিত মানুষের মধ্যে মানবীয় গুণাবলি আরো বেশি থাকার কথা, তা কিন্তু এখন আর তেমন দেখা যাচ্ছে না। আজকাল প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত হতে হয়, খবরের পাতা ওল্টালেই দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এসব খবর পড়ে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। মা নিজের হাতে তার সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করছে। বাবার লাঠি বা অস্ত্রের আঘাতে ছেলে মৃত্যুবরণ করছে। স্বাধীন জীবনযাপনের জন্য মেয়ে মা-বাবাকে হত্যা করছে, ছেলে জন্মদাতা মা-বাবাকে হত্যা করছে। সামান্য জমি বা টাকার জন্য ভাই ভাইকে হত্যা করছে। তুচ্ছ কারণে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। সামান্য বিষয়ে খুনখারাবি একটা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। সব মৃত্যুই বেদনার, সব কষ্টই কষ্ট, তার পরও কেন জাতির এভাবে মনুষ্যত্বের অধঃপতন, নৈতিক স্খলন, যা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।*

*চারদিকে শুধু হত্যা ও জিঘাংসা মানুষকে অন্ধ করে ফেলছে। বাঙালি জাতির সহভাগিতা ও সহমর্মিতার গল্প অনেক পুরনো। সেই সহভাগিতা ও সহমর্মিতা আজ কোথায় হারিয়ে গেল বা হারিয়ে যাচ্ছে? আমাদের মধ্যে এমন পশুপ্রবৃত্তি বাড়ছে কেন? এই যে সামাজিক অস্থিরতা চলছে, এর শেষ কোথায়? শুধু আইনি কাঠামো দিয়ে এ অবক্ষয় দূর করা যাবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক আন্দোলন এবং নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের মানবিক মূল্যবোধ এতটাই নিম্নগামী হয়েছে যে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। আমরা আমাদের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য শিশুর মতো পবিত্র নিষ্পাপ প্রাণ কেড়ে নিতেও দ্বিধা করছি না। সহনশীলতা ও ধৈর্য আমরা হারিয়ে ফেলেছি। শিক্ষার হার এত যে বাড়ছে তাতে কী লাভ হচ্ছে? শিক্ষিত হয়ে আমরা আরো বর্বরতার দিকে ধাবিত হচ্ছি কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। কোনো ধরনের শিক্ষাই আমাদের মূল্যবোধ ও মনুষ্যত্ববোধ তৈরিতে সহায়ক হচ্ছে না। আসুন, আমরা আবার সামনের দিকে ঘুরে দাঁড়াই, শুভ বুদ্ধির উদয় করে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে আমাদের মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে ভারত‌কে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই; যার জন্য হাজা‌রে হাজা‌রে মানুষ আত্মত্যাগ করেছে, একটি সুন্দর ভারত বিনির্মাণে আমরা মনোনিবেশ করি, আমরাই একটি সুন্দর সমৃদ্ধিশালী ভারতবর্ষ গড়ে তুলতে পারি।*
✍✍✍✍✍✍✍

🤝🤝🤝🤝🤝🤝🤝🤝
🍀☘🌺🌿🌷💐🌹
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670