রোজা ভেঙে রক্তদান করে নজির গড়লেন হাওড়ার শ্যামপুরের মুর্শিদ।




নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্যামপুর ,হাওড়া,


Lockdown এর এই কঠিন সময়ে যখন মানুষ অনেক স্বাস্থ্য সমন্ধে সমস্যায় রয়েছে এবং আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের সেদিকে ভ্রূক্ষেপ কম। অনেক ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে রক্ত সঙ্কট।


তবে জীবন-মৃত্যু কোনোটাই থেমে নেই। আজও বেঁচে থাকার জন্য আজও রক্তের দরকার। সেই প্রয়োজনেই বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে আবারও নিজের জীবন বাজি রেখে , পাশের গ্রামের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে, সবকিছু খবর উপেক্ষা করে, রোজা ভেঙে  এগিয়ে এলো  হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানার হোগলাসী গ্রামের সেখ মুর্শিদ আলম। রক্ত দিলেন শ্যামপুর থানার নোনাডাঙী গ্রামের ফিরোজ আলী খান এর পুত্র  মারুফ হাসান কে। 





“ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলিম  নির্বিশেষে;
রক্তের প্রয়োজনে আমরা আছি অসহায়দের পাশে”-
 সেটাই প্রমান করলো মুর্শিদ। একজন "মানুষ" হয়ে অন্যের বিপদে এগিয়ে এসে।
আঠারো দিন আগে রমজান মাস শুরু হয়েছে। অন্য বছরের মতো এবছরও শ্যামপুরের হোগলাসী গ্রামের ২৪ বছরের যুবক মুর্শিদ আলম নিষ্ঠাভরে রোজা করছিলেন। কিন্তু আজ আর তিনি রোজা রাখতে পারেননি। 

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ১১ বছরের শিশু মারুফ হাসান এর মায়ের কাতর আবেদনে তিনি রোজা ভেঙে ফেলেন। লকডাউনের সময়েও তিনি প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মোটরবাইকে  উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দিয়েছেন।



মুর্শিদ জানান, "১৪ বছর বয়স থেকে রোজা করি। অসুস্থতা ছাড়া অন্য কোনও কারণে কোনও দিন রোজা ভাঙিনি। রক্তদানের জন্য আমাদের এলাকায় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। আমার বন্ধু সেখ ফয়জুল রহমান ওই গ্রুপের সদস্য।ফয়জুল AB+ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে আমাদের আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের গ্রুপে একটি পোস্ট করেন।ক্লাবের অনেকেই এই লকডাউনে রক্তদন করেছেন SSKM বা উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে।

 কাউকে না পাওয়ায় আমি রক্ত দিতে রাজি হই। রক্তদান করলে রোজা করা যায় না। তাই আমি রোজা ভেঙেছি। তাঁর দাবি, ‘‘আমার কাছে ওই শিশুটির জীবন আগে। মানবধর্ম আগে।’’
এই কঠিন সময়ে যারা রক্তদান করতে ভয় পাচ্ছেন,  তাদের সবার কাছে এই মুর্শিদ  উদাহরণ হয়ে উঠুক।

0/Post a Comment/Comments