অসহায়দের পাশে "কলিকাতা বিধান মানব বিকাশ সমিতি"


অভিজিৎ হাজরা#হাওড়া:-
                                         ১৯৭৮ সালে দামোদর নদের প্রলঙ্করী বন্যায় আমতা-১,আমতা-২, উদয়নারায়নপুর ব্লক সহ হাওড়া জেলার বিভিন্ন গ্ৰাম প্লাবিত হয়। মানুষ অন্নহীন,বস্ত্রহীন,আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় বিবেকানন্দের ভাবাদর্শে,"জীবে প্রেম করে যে জন,সে জন সেবিছে ঈশ্বর", এই বাণীতে অনুপ্রাণিত হয়ে আমতা থানার তথা আমতা-১ নং ব্লকের রসপুর গ্ৰামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত কয়েকজন তরুণ তাদের সামান্যতম সঞ্চয়কে পুঁজি করে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ায়। নিজেদের মত সাহায্য করতে থাকে।



এলাকার এই উদ্যোমী যুবকদের সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত হয়ে, কলিকাতা গ্ৰামের প্রয়াত রুপালি বসু,প্রয়াত শম্ভুচরণ বসু ওই যুবকদের একটি সংগঠন তৈরীর জন্য উপদেশ দেন। সেই সাথে ওনারা বলেন, সংগঠন তৈরীর জন্য জায়গা দান করবেন।সেইমত ওনারা জায়গা দান করেন।
ওনাদের দান করা জমিতেই গড়ে ওঠে সংগঠন। সেই সময় গ্ৰাম-বাংলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছিল।স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য সদস্য-সদস্যারা এগিয়ে এসে ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন।ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় ও যুগনায়ক বিবেকানন্দ -র স্বপ্ন ও লক্ষ্য "আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ" সফল করতে সংগঠনের নাম দেন " কলিকাতা বিধান মানব বিকাশ সমিতি" ।


১৯৭৮ সাল থেকে এই সমিতির সভ্য-সভ্যা, কর্মীবৃন্দ গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রত্যন্ত গ্ৰামগুলিতে সমাজসেবা মূলক কাজ শুরু।গ্ৰাম বাংলার মানুষ যখন ই কোনো ও সমস্যায় পড়েছে তখনই সমিতির সভ্য-সভ্যা, কর্মীবৃন্দ ত্রাতার ভূমিকায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন এবং করছেন। সমিতিতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা চলছে। এলাকার যুবক-যুবতী,গ্ৰামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে। প্রতি বছর পুজার সময় -নতুন বস্ত্র, শীতকালীন সময়ে শীতকালীন পোশাক, কম্বল,চাদর বিতরণ করে চলেছে, বিভিন্ন ডোনার প্রতিষ্টানের সহযোগিতায়।
   এই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার তারাপদ মান্না এবং কর্ণধারদের অন্যতম অর্চিতা (বসু)মান্না বলেন, বর্তমানে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সমিতি ক্ষুদ্র ক্ষমতা নিয়ে  এই সংকটময় মুহুর্তে সরকারি ব্যবস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-ক্লাবের সাথে COVID-19 নিয়ে বিভিন্ন গ্ৰামে সচেতনতা শিবির করছি। আমতা-১নং ব্লকের রসপুর গ্ৰামপঞ্চায়েতের ৬ টি গ্ৰাম,বালিচক গ্ৰামপঞ্চায়েতের  ২ টি গ্ৰাম সহ উদয়নারায়নপুর ও আমতা ২ ব্লকের বিভিন্ন গ্ৰামগুলির জনগণকে এই লক ডাউনের উদ্দেশ্য, এই সময় নিজেদের সুস্থ রাখা, পরিবারের সদস্য-সদস্যাদের সুস্থ রাখা,পাড়া-প্রতিবেশীদের ও গ্ৰামকে সুস্থ রাখার জন্য পরামর্শ দান করছেন।গ্ৰামের দোকান-হাট-বাজার, যেখানে মানুষ একান্ত প্রয়োজনে যাচ্ছে সেখানে মানুষ কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে তা নিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। তাদের সুরক্ষার জন্য গ্ৰামের বিভিন্ন জায়গায় ব্লিচিং  স্প্রে করা হচ্ছে।
শহর কলকাতা ভবানীপুর " আহাম যুবা সেবা গ্ৰুপ লকডাউনের পরিস্থিতিতে ২২৫ টি পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল,ডাল,তেল,আলু,লবণ, বিস্কুট, হলুদ, সোয়াবিন,চিনি,সাবান তুলে দিয়েছে। কলিকাতা বিধান মানব বিকাশ সমিতির ব্যবস্থাপনায়।
রসপুর গ্ৰামপঞ্চায়েতের কলিকাতা, রসপুর, সোমেশ্বর,কুমারিয়া-এছাড়াও সংস্থা নিজের ফান্ড থেকে আরো ও ১০০ পরিবারের সদস্যদের ঐরূপ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে। শহর কলকাতার "বিবেকানন্দ স্বাস্থ্য সেবা সংঘ"-র সম্পাদক ডাঃ গৌর দাস-এর আর্থিক সহযোগিতায় ১২ বস্তা মুড়ি,বাদাম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংস্থার"সম্পূর্ণা" প্রজোক্টের মাধ্যমে যেটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে আমতা-১,আমতা-২ ও উদয়নারায়নপুর ব্লকের ৩০ টি গ্ৰামে আমাদের স্থানীয় কর্মীদের তালিকানুযায়ী ১৩০০ পরিবারকে চাল,ডাল,আলু, সোয়াবিন,সঃ তেল,সাবান,লবণ,চিনি, বিস্কুট, হলুদ-লঙ্কা,ও অন্যান্য ঝাল-মশলা বিতরণ এর কাজ চলছে। এছাড়াও আমতা ১ নং ব্লকের খড়দহ, আমতা-২ নং ব্লকের দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা,ঘোড়াবেড়িয়া-চিৎনান গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্ৰামের দুঃস্থ পরিবারদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।এই কাজে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে "A M I  পূর্তগার্ল" নামক সংগঠন। এই সমস্ত বিতরণ কাজ, সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে।
বর্তমানে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা ও মানুষের অভাবনীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষদের সাহায্য -সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন সংগঠন, সাধারণ মানুষ তাদের সাধ্যমত সাহাযয্য আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আমরা চাই করোনা মুক্ত বাংলা, করোনা মুক্ত ভারত সহ গোটা পৃথিবী।

0/Post a Comment/Comments