সমাজ বনাম শ্রেণী ,




আজকে বিশ্ব, মহামারী নিয়ে জর্জরিত ।তাবর তাবর উন্নত দেশ গুলো দিশেহারা। ট্রাকে করে মৃত্যুর যাত্রা হচ্ছে, রাস্তায় রাস্তায় হাহাকার। অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো কিছু করেই ঠেকাতে পারেনি সংক্রমণ থেকে মৃত্যু। 
বিশ্ব বাজার দেখবে ক্ষুদার যন্ত্রনা,দেখবে ফ্যান ভাতে নুন দেওয়া। আমরা যদিও এগুলো দেখেই এসেছি। 
 
70 বছরের বেশি সময় ধরে আমরা উন্নয়নশীল, প্রথম ভয় এখানেই। দেশের আক্রান্ত 1000 পেরিয়ে গেলেও 100 টা নেতার হুঁশ ফেরে নি, তারা সবাই এখন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে গিয়েছেন। 
বিপদের আশঙ্কা আসতেই সমাজ সঙ্গে সঙ্গে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ হয়ে গেলো - 
এক সচেতন, দুই অসচেতন তিন অসহায়। 

সরকার কোনোদিন টাকা রাখেনি দেশের বিপদে কাজে লাগাতে। এই দোষ আজকের নয় এই দোষ সেই নেহেরু থেকেই। আমাদের non profitable এর চক্করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অনেক আগেই ব্যাবসা ক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল। আমরা সামান্য সর্দি জ্বর এও 5 লাখ বিল করে মুনাফা নিয়েছি। ডেড বডি আটকে লাখে লাখে বিল বাড়িয়ে তুলেছি। 
তাই স্বাস্থ্যতে উন্নয়ন কোনোদিন ভেবে দেখেনি সরকার,সাধারণমানুষ কেউই। 
সাধারণ মানুষ ঘুষ দিতে দিতে চুরি করতে শিখে গেলো, সমাজের কথা ইতিহাস বইয়ে থেকে গেলো, মানুষ মানুষকে ধর্মের নামে খুন করতে লাগলো।ফল স্বরূপ টাকা এলো টাকা আসতেই থাকল, দেশের স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছর পালন হল কিন্তু উন্নয়ন উন্নয়নশীলের গন্ডি পার করতে পারলো না। 

দেশে বেকার, অশিক্ষা, অরাজকতা, এগুলোই হল। 
আমরা তাতেই খুশি 50, 100, 1000 যা পাই তাতেই ভোট টুকু দিয়ে এসেছি, কিন্তু কোনোদিন এর বাইরে ভেবে টুকু দেখি নি। 
শেষমেষ করোনা ভাইরাস আজকে এসে আমাদের মনে করিয়ে দিলো আমরা শুরু যেখানে করেছিল আজ সেখানেই পরে আছি। মিলিয়ন, ট্রিলিয়ান, সব হয়েছে, নতুন নতুন স্লোগান হয়েছে,দেশের বডি, বাহ্যিক গঠনে পরিবর্তন সব সব হয়েছে কিন্তু আমরা কিছুই করে উঠতে পারিনি। 

তাই আজ আমাদের করোনা ভাইরাসের টেস্ট কীট নেই, লক ডাউন এ মানুষকে কিছুদিন খাওয়ার দেওয়ার অর্থের যোগান নেই, আমাদের মানুষের সচেতনতা নেই, নিয়ম করছে সরকার তো সেই দলের নেতা নিয়ম ভেঙে দিচ্ছে, সাধারণ মানুষ "ও আমাদের কিছু হবে না" বলে দায় সেরে দিচ্ছেন, কেউ লক ডাউন বলে বেশী মুনাফা নিচ্ছেন, স্ক্রিনিং এর নামে নাটক, সোশাল ডিসটেন্শ- এর নামে লাখে লাখে শ্রমিক এদিক ওদিক আসছেন, এক শ্রেণী কিছু করতে না পেরে হাজার কিলোমিটার হেঁটে চলেছেন, কোনো রাষ্ট্র কোনো নেতা তাদের দায়িত্ব টুকু নেই নি। 

সমাজের কিছু গুটিকয়েক মানুষ বরাবর ছিল যারা সবটা পাল্টে দিতে চেষ্টা করে আজও করছে কিন্তু আগে যা যা হয়েছে তাইই হবে। হয় মেরে দেবে না হয় দমীয়ে।
 মহামারী লেগে গেলেই বা কি না লাগলেই বা কি লক্ষ লক্ষ রোজ মরে এবারেও মরবে পার্থক্য শুধু বাকি মৃত্যুর কোনো রেজিস্ট্রেশন থাকে না আর এই ভাইরাসের প্রকোপের মৃত্যুর সেটা থাকবে। 
আর ইতিহাস বইয়ে লেখা থাকবে 2020 মহামারী।
কিন্তু আমি এখনো আশা রাখি, বাঙালির এটা আছে। 
তাই সরকার কে অনুরোধ করি, যা হয়েছে তাই হতে না দিয়ে যা হবে তা মেনে না নিয়ে চলুন এই 70 বছরের গাফিলতি ভেঙে গুড়িয়ে দি। সিদ্ধান্ত নিন সাহস করুন আমরা সবাই সাথে আছি, মরলে মরব অনাহারে, কিছু একটা শিখিয়ে যাবো। দেশটাকে উন্নত করার পথে এগিয়ে দিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম কে নতুন ভারতের দায়িত্ব দেবো, আসুন শুরুটা মহামারী দমন থেকেই হোক। 

-প্রিয়নীল পাল
বীরভূমের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও লেখক।

0/Post a Comment/Comments

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com