ঋনের দায়ে আত্মহত্যা,

মালদা-

ব্যবসার জন্য চরা সুদে ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় মহাজনদের কাছে। 

সময় মতো শোধ করতে না পারায় মহাজনদের চাপ বাড়ছিল। অন্যদিকে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা তাঁর পাওনা টাকা দিচ্ছিল না।




 বাজারে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ঋণ ছিল তাঁর। বীতশ্রদ্ধ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

 এই ঘটনায় চাঞ্চল্য বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যবসায়ীর নাম ফাইজুদ্দিন মিয়াঁ(‌৫২)‌। 

বৈষ্ণবনগর থানার বড় কামাত এলাকায় বাড়ি তাঁর। তিনি বছর দুয়ের ধরে ভুট্টার ব্যবসার কাজে নেমে ছিলেন। 

এলাকায় চাষিদের কাছ থেকে ভুট্টা পাইকারি দরে কিনে বিভিন্ন জায়গায় ভুট্টা বিক্রি করতেন।

 তাঁর ভুট্টা যেত যেমন কলকাতা, আরামবাগ, শিলিগুড়ি, কিষানগঞ্জে। জানা গেছে, দূরের ব্যবসায়ীদের কাছেই তিনি পেতেন প্রায় ৮ লাখ টাকা।

 কিছুতেই তাঁরা টাকা দিচ্ছেন না। 

এদিকে এলাকায় মোটা টাকা সুদে তিনি যে টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ টাকায়। 

জানা গেছে, স্ত্রী শিশিমা বিবি ও ৪ ছেলে-‌মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। 
পুলিশ জানিয়েছে, ঋণের টাকা শোধ দেওয়া নিয়ে অবসাদে ভুগছিলেন কিছুদিন ধরে।

 মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখেন পরিবারের লোকেরা।

 আশঙ্কজনক অবস্থায় তাঁকে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে জানান। 
সাধারণ চৈত্র, বৈশাখ মাসে জমি থেকে ভুট্টা উঠতে শুরু করে।

 ওই সময় ব্যবসার তোড়জোড় শুরু হয়। বছর দুয়েক ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। 

মৃতার ভাই ফাকিরুদ্দিন মিয়াঁ বলেন,‘‌দাদা স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে ভুট্টা কিনে বাইরে পাঠাত।

 বাইরের ব্যবসায়ীরা ভুট্টা নিয়ে টাকা শোধ করে নি। এদিকে দাদা স্থানীয়দের কাছে চরা সুদে বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা টাকা দিলে সেই টাকায় শোধ দেবে বলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। 

এদিকে টাকা না পেয়ে পাওনাদারদের চাপ বাড়ছিল। অবসাদে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় দাদা।’‌ 

বুধবার ময়না তদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয় মালদা মেডিক্যালের মর্গে।র

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670