কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত ঘেরাও স্বনির্ভর মহিলা গোষ্ঠীদের,

মালদা ১৭ জানুয়ারি :




 কুশিদা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধান সহ অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হলেন এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।

 তাদের অভিযোগ সরকার থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অনুদান বরাদ্দ হচ্ছে কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধান ও আধিকারিকদের যোগসাজশে সেগুলি আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে। 

 স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট শেফালী খাতুন অভিযোগ করেন কুশিতা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে এমএমডি স্কিমে গাছ লাগানো ও অন্যান্য কাজের জন্য এক লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা করে স্কিম কিছু বরাদ্দ হয়েছিল।




 সেই প্রকল্পে এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলির মহিলাদের কাজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা যাচ্ছে সেই স্কিমের টাকা প্রধান ও তার কাছের কিছু মেম্বারদের দলনেত্রীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক একাউন্টে যাচ্ছে এবং সেখান থেকেই টাকাগুলি আত্মসাৎ হচ্ছে। 

 এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন যেখানে কলাগাছ লাগানোর কথা সেখানে ধনের গাছ লঙ্কা গাছ প্রভৃতি লাগানো হচ্ছে।পুজোর সময় স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলিকে রাজ্য সরকার পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়েছিল সেই টাকাও পঞ্চায়েত থেকে পাওয়া যায়নি। 

এছাড়াও ইন্দিরা আবাস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের টাকাও স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলির অনেক মহিলা পাননি। ইন্দিরা আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার দেওয়ার জন্য ও করা হয় ও ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছিল কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো ঘর পাওয়া যায়নি। 

এই সমস্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ তারা পঞ্চায়েত অফিসে প্রধানের নিকট অভিযোগ জানাতে এসেছেন কিন্তু বেলা দুটো বেজে যাওয়া পড়ো প্রধান অফিসে আসেনি এমনকি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা গরহাজির আছে তাই তারা পঞ্চায়েত অফিসে তালা মেরে দিয়েছেন। 

 এ প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও হরিশ্চন্দ্রপুর ১ এর যুব তৃনমূলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট সোমনাথ মিত্র জানান স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সশক্তিকরণ এ লক্ষ্যে রাজ্য সরকার বিভিন্ন স্কিমে টাকা বরাদ্দ করছে। কিন্তু সেই টাকা প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। 

কুশিদা অঞ্চলের এরকম ৩০-৩২ টা স্বনির্ভর গ্রুপ অভিযোগ করছে তারা পঞ্চায়েত থেকে এমএমডি স্কীমে বরাদ্দ এক লাখ ৩৯ হাজার টাকার গাছ লাগানো ও অন্যান্য কাজের জন্য যে টাকার বরাদ্দ হয়েছিল তারা কিছুই সেটি পাচ্ছেন না। 

বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে কিন্তু কোন গাছ লাগানো হয়নি এরকম অভিযোগ এলাকা থেকে উঠছে।

 তাই এই সমস্ত অভিযোগ কে সামনে রেখে আজ এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা প্রধানের কাছে বিক্ষোভ দেখাতে এসেছে কিন্তু পঞ্চায়েত অফিস এ প্রধান সহ অন্যান্য আধিকারিকরা আজ হাজির হননি। 

 তিনি আরো জানান স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রাপ্ত টাকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজনের একাউন্টে চলে যাচ্ছে এরকম অভিযোগ উঠছে। আমরা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর কাছে অভিযোগ জমা করব। 

তিনি বিচার করবেন অভিযোগটি কতখানি সঠিক। এ প্রসঙ্গে কুশিতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আখতারী খাতুন জানালেন কোন অভিযোগই সত্য নয়। 

১০০ দিনের প্রকল্পের এমএমডি স্কিমের অন্তর্গত গাছ লাগানো ছাড়াও আরো ৪-৫ টি কাজ রয়েছে সেগুলো নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে স্ক্রিম পিছু।

 এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ইন্দিরা আবাস যোজনা যাদের নাম রয়েছে তারা ঘর তৈরি টাকা পেয়েছেন। 

আজকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কিছু মহিলা যে সমস্ত অভিযোগ তুলছেন তা ভিত্তিহীন বলে জানান কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আখতারী খাতুন। এ

 প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বরে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু জানিয়েছেন ঘটনার খবর পেয়েছি। 

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে প্রশাসনিক দিক দিয়ে।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670