তিনদিন ধরে মিড-ডে-মিল পরিষেবা পাচ্ছেন না ছাত্রছাত্রীরা,

বাবাই সূত্রধর,

দক্ষিণ দিনাজপুর,২০ ডিসেম্বর; 




তিনদিন ধরে মিড-ডে-মিল পরিষেবা পাচ্ছেন না ছাত্রছাত্রীরা, বিস্কুট ও মুড়ি খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে শিক্ষিকা বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। 

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী থানার বাতাসকুড়ি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের।

 নিম্নমানের খাবার সহ সময়মতো শিক্ষিকারা ওই শিশু শিক্ষা কেন্দ্র না আসার অভিযোগও উঠিয়েছেন অভিভাবক সহ এলাকাবাসীরা। 

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই কেন্দ্রের শিক্ষিকা। 

 সূত্রে জানা গেছে ২০১১সালে এমএসডিপি বরাদ্দকৃত অর্থে বাতাসকুরি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে ওঠে। 

মিড ডে মিল পরিসেবা ছাত্র-ছাত্রীদের পাইয়ে দেওয়ার জন্য, ২০১৭ সালে বংশীহারী পঞ্চায়েত সমিতি কর্তৃক নির্মিত প্রায় ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে একটি রান্না ঘর তৈরি করে দেওয়া হয় ওই কেন্দ্রে। 




যেখানে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি মিড ডে মিলের পরিসেবা নিয়ে থাকে। 

অভিভাবকদের অভিযোগ, গত তিনদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের মিড ডে মিল এর খাবার না দিয়ে বিস্কুট ও মুড়ি খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে ওই কেন্দ্রের শিক্ষিকারা। 

তাদের আরও অভিযোগ, সময়মতো শিক্ষিকারা ওই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে আসেন না।

 কখনো ১১.৪৫ মিনিট আবার কখনো ১২টা সময় শিক্ষা কেন্দ্রে আসেন শিক্ষিকারা, ঘন্টাখানেক পড়াশোনা করিয়েই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। 

 নিম্নমানের মিড ডে মিলের খাবার ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশন করেন। প্রোটিন যুক্ত খাবারের তো বালাই নেই। 

এ বিষয়ে এক অভিভাবক বাবু রায় ও এক গ্রামবাসী পঞ্চানন রায় জানিয়েছেন, বাতাস কুড়ি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে গত তিনদিন ধরে মিড ডে মিলের খাবারের বন্ধ রয়েছে। 

দুটো বিস্কুট আবার কখনো সামান্য মুড়ি খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে শিক্ষিকা। 

এছাড়াও বিগত দিনগুলিতে মিড ডে মিল খাবার গুলি ও নিম্নমানের পরিবেশন করেন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। বেশ কয়েকবার ওই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে তালা আমরা তালা ঝুলানোর কথাও ভেবেছিলাম।

 সময়মতো শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ঢুকেন না শিক্ষিকারা। আমরা চাই বাতাস করে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে পড়াশোনার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি মিড ডে মিলের পরিষেবা ভালো হোক।

 এ বিষয়ে ছাত্র শুভঙ্কর রায় ও ছাত্রী কোয়েল রায় জানিয়েছেন, তিনদিন ধরে আমরা মিড ডে মিলের খাবার পাইনা। শিক্ষিকা আমাদের বিস্কুট ও মুড়ি খাইয়ে ছুটি দিয়ে দেন। 

 যদিও বাতাস কুড়ি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা জয়া বসাক তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, স্কুলেরই বই আনার জন্য তারা একটু ব্যস্ত ছিলেন। 

রাঁধুনিদের অসুবিধা থাকার জন্য তিন দিন ধরে রান্না হয়নি। 

 এখন দেখার এটাই আর কতদিন শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের বিস্কুটও মুড়ি খাইয়ে শিক্ষা দান করেন।

0/Post a Comment/Comments