ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য নিয়ে আজও পালিত হয়ে আসছে ইংলিশবাজারের মহদিপুর সংলগ্ন জালুয়াবাথাল গ্রামের কালী পুজো।

নিজস্ব প্রতিবেদক,


 ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য নিয়ে আজও পালিত হয়ে আসছে ইংলিশবাজারের মহদিপুর সংলগ্ন জালুয়াবাথাল গ্রামের কালী পুজো। 




সিপাহী বিদ্রোহেরও ১৭ বছর আগে এক মুসলিম পরিবারের দান করা জমিতে নির্মিত মন্দিরেই এই কালী পুজো একইভাবে হয়ে আসছে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির প্রতীক হিসাবে।

 ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বাড়বাড়ন্তের সময়েও এই পুজো এখনও শান্তি ও সৌহার্দ্যের বাণীই বহন করেন বলে ধারণা সাধারণ মানুষেরও। 

এই পুজোর সঙ্গে পারিবারিকভাবেই যুক্ত রয়েছেন বর্তমানে ইংলিশবাজারের বাসিন্দা ববি আহমেদ। 

পেশায় শহরের একটি প্রখ্যাত লন্ড্রি’র মালিক এবং নেশায় সমাজসেবী ববি সাহেব জানালেন, তাঁর প্রপিতামহ বুকশান বিশ্বাস নিজের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।

 তাঁদের গ্রামের বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট ঘর রাখা থাকত যেখানে রামকেলি মেলায় আগত বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সাধু সন্ন্যাসীরা আশ্রয় নিতেন। 

এমনকি বিশ্বাস পরিবারের দেওয়া চাল ডাল স্বপাক খেতেন তাঁরা। এমনই এক সাধু আতিথেয়তায় তৃপ্ত হয়ে একবার বুকশান বিশ্বাসের হাতে একটি মাটির বাতাসা উপহার দেন। পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস এরপর থেকেই ভাগ্য ফিরে যায় ওই পরিবারের।

 ধীরে ধীরে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ ও সম্পত্তি আসতে থাকে ওই পরিবারের হাতে। বাবাজী নামে পরিচিত ওই সাধু অবশ্য কিছু দাবি করেন নি বিনিময়ে। বুকশান বিশ্বাস তাঁকে কিছু দিতে চাইলে তিনি এক খণ্ড জমি চেয়ে নেন। 

বিশ্বাস পরিবারের আম বাগানের থেকে ১০ কাঠা জমি দেওয়া হয় ওই সন্ন্যাসীকে। কালক্রমে অখানেই গড়ে উঠে মন্দির। তবে শুধু কালী পুজোই নয়, বৈশাখ মাসে ওই মন্দিরে কৃষ্ণ পুজোও হয়ে থাকে বলে জানান ববি সাহেব। 

পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই কালী পুজোর অংশ হয়ে উঠার জন্য তিনি নিজেও সপরিবারে চলে যান জালুয়াবাথাল গ্রামে। এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে চাঁদা তুলে এই পুজোর খরচ নির্বাহ হয়ে থাকে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

 বুকশান বিশ্বাসের বংশধররাও নিজেদের সাধ্যমত খরচ দেন এই সর্বজনীন পুজোর। তবে শুধু কালী পুজোই নয়, ২০০৭ সাল থেকে ইংলিশবাজারে গাজোল ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছে যে দুর্গা পুজো চালু হয় তার সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এই সমাজ কর্মী। 

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি নিজের ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ কেটে যাবে। এই দুর্গা পুজোর আয়োজনে থাকেন স্থানীয় হিন্দু পরিবারের সদস্যরাও।

 সকলেই শান্তি ও সম্প্রীতির আবহে মেতে উঠেন এই কালী পুজোকে কেন্দ্র করে। হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরই বক্তব্য, আমাদের এই পুজো অত্যন্ত জাগ্রত। 

আমরা তাই সব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে এই পুজোয় অংশ নিই। আমাদের একটাই প্রার্থনা, মা কালী আমাদের সকলের মঙ্গল করুন, সবাইকেই রক্ষা করুন।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670