লকডাউনের ফলে প্রায় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যু ছাত্রদরদী শিক্ষকের





সংবাদদাতা: লকডাউনের কবলে পড়ে চিকিৎসা থেকে প্রায় বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন ছাত্রদরদী শিক্ষক ও খোর্দ্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য মতিউর রহমান। সম্প্রতি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ফলতা থানার একটি নার্সিংহোমে ৭৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই শিক্ষকের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বহু ছাত্রছাত্রী, একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান সহকর্মী ও আত্মীয়স্বজনসহ গ্রামবাসীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাঁর জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন এবং শ্রদ্ধা জানান।

অত্যন্ত মুক্ত মনের অধিকারী ও ছাত্রদরদী শিক্ষক ছিলেন মতিউর রহমান। সূত্রের খবর,এলাকায় মতিমাস্টার নামে পরিচিত ছিলেন। জন্মস্থান বাংলা গ্রামে (১৩৪৯ সালে জন্ম) হলেও বিগত ২০-২২ বছর ধরে বসবাস করতেন সরিষা বি বি ও অফিস পাড়ায়। সাম্যবাদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। বিগত ২০০৩-২০০৮সাল পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার-২ নং ব্লকের অধীন খোর্দ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে সাফল্য লাভ করেছিলেন। এই পর্বে মহকুমা ডিজাস্টার কমিটির ও ইউনিসেফের পোলিও ইরাডিকেসান প্রোজেক্টের সদস্য হয়ে বহু কাজও করেছিলেন। এরপর, নানা প্রতিবন্ধকতার জন্য সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,বেশ কিছুদিন ধরে তিনি রক্তাল্পতায় ভুগছিলেন। ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ কল্যাণ আশিষ ঘোষের চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু, তেমন উন্নতি না হওয়ায় কলকাতায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা ছিল। সেইমত, গত ২৪ মার্চ কলকাতায় একজন প্রখ্যাত হেমাটোলজিস্টকে দেখানোর এপয়েন্টমেন্ট করা ছিল। কিন্তু, হঠাৎ লকডাউনের ফলে ডাক্তার সমস্ত এপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে দেন। তাছাড়া, লকডাউনের জন্য ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ থাকায় তিনি ধারাবাহিক চিকিৎসা পরিসেবাও পাননি। এ অবস্থায় গৃহবন্দি হয়ে চিকিৎসক ডাঃ ঘোষের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে চলছিলেন।  কিন্তু,গত ৮ জুন হঠাৎ তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ডাঃ ঘোষের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, শ্বাসকষ্টের কথা শুনে ডাঃ ঘোষ না দেখে ফিরিয়ে দেন। এরপর, প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার এলাকার একাধিক নার্সিংহোমে ভর্তি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয় বলে সূত্রের খবর। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো সম্ভব হলেও দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা না পাওয়ায় গত ১০ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। শিক্ষকপুত্র কবি তাজিমুর রহমান বলেন, চিরকাল যে মানুষটি মানবিকতাকে সবকিছুর   উপরে জায়গা দিয়ে গেলেন তাঁর ক্ষেত্রে মানবিকতা প্রোটোকলের কাছে হার মানল। প্রোটোকলের অজুহাতে যে ডাক্তার (ডাক্তার কল্যাণআশিষ ঘোষ) দেখতেন তিনিও ফিরিয়ে দেওয়ায় তার অনেকটা শারীরিক ও মানসিক অবনতি হয়েছিল। ফলে, ক্রমে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছিল। সত্যি বলতে কি ডাক্তারের এমন অমানবিক মুখ খুব কম চোখে পড়েছে আমার।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670