কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্ক সেই তিমিরেই, ৮৯




নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী:

 ন‍্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব র‌্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্কে তালিকায় কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সেই তিমিরেই। এবারের র‌্যাঙ্ক ৮৯। যেখানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৫ম এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ৭ম স্থান দখল করেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছনে ফেলে এবারে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সবার উপরে স্থান করে নিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরিখে যাদবপুরের স্থান ৫ম। ২০১৯ সালে ছিল ৬ষ্ঠ। সেখানে দাঁড়িয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্ক হয়েছে একশোর মধ্যে ৮৯তম। এমএইচআরডি-এনআইআরএফ সামগ্রিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতেও একটি তালিকা প্রকাশ করে থাকে। সেখানে প্রথম ১০০ তে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্থান নেই। সামগ্রিক ভিত্তিতে কলকাতা, যাদবপুর এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান যথাক্রমে ১২ তম, ১৩ তম ও ৫৯ তম। অথচ কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এই তালিকায় স্থান পায়নি। একদা শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত কল‍্যাণী এখন শিক্ষানগরী বা এডুকেশনাল হাব হিসেবেই বেশি করে পরিচিত। এই শহর এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকারী। কল‍্যাণীর শিক্ষা-সংস্কৃতিকে পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। অথচ সময়ক্রমে দিন দিন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মান উন্নয়নের ধারা স্থিমিত। গত বছরের তুলনায় মাত্র দু'ধাপ এগিয়েছে। এরই মাঝে অভিযোগ উঠছে, এন‌আই‌আর‌এফ এ বিশ্ববিদ্যালয় যে তথ্য দিয়েছে তাতেও অনেক জায়গায় সঠিক পরিসংখ্যান নেই। যেমন, গতবছর প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পরিকাঠামোগত তথ্য পেশের ক্ষেত্রে যে তথ্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলিতে র‌্যাম্প ও লিফট আছে কিনা এমন প্রশ্নের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৬-২০১৭ তে জানিয়েছিল সব ভবনে আছে, অথচ ২০১৯ তথ্যে বলা হয় ৮০ শতাংশ ভবনে  প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য র‌্যাম্প ও লিফট আছে। আশ্চর্যের ব্যাপার ২০১৬-২০১৭ তে যেখানে সব ভবনে র‌্যাম্প ও লিফট ছিল তা ২০১৯ উধাও। তথ্য বলছে ২০১৯ এ ৮০ শতাংশ ভবনে  প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য র‌্যাম্প ও লিফট আছে। এভাবে একাধিক ক্ষেত্রে অসঙ্গতিপূর্ণ ও অসত্য তথ্য পেশের অভিযোগ উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে।

ন‍্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব র‌্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্কের তালিকায় কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় বিগত বছরগুলিতে স্থান পেয়েছিল যথাক্রমে ২০১৬ তে ৪৫, ২০১৭ তে ৬৬, ২০১৮ তে ৮৬, ২০১৯ এ ৯১। এই সময় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন শংকর কুমার ঘোষ। তাঁর প্রশাসনিক অনভিজ্ঞতা এবং বিদ্যায়তনিক পারদর্শিতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতপূর্ব উপাচার্য মলয়েন্দু সাহা এবং রতনলাল হাংলুর সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রম উন্নতির ধারা বজায় রেখেছিল। যেখানে অধ্যাপক ঘোষ উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং ছিল ২০১৬ তে ৪৫ , সেখানে আজ ২০২০ তে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯। অবনমনের এই চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে চরমতম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদর্থক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই পর্বে উপাচার্যের দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক শঙ্কর কুমার ঘোষ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের তীর তাঁর দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি গর্ব করার মতো নয়। প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এই প্রতিষ্ঠান কতটুকু দায়িত্ব গ্রহণ করছে নিজেদের উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত করার জন্য? সামগ্রিক প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক হিসেবে প্রথম একশোর তালিকায় স্থান পায়নি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়।

সামগ্ৰিক বিদ‍্যায়তনিক দিক অবহেলিত হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা। গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় ৪৪ ধাপ নিচে নেমে গেছে। সামগ্ৰিক পঠন-পাঠন, গবেষণা সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন কর্তৃপক্ষের উপর অনেকেই ক্ষুব্ধ বলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী এবং আধিকারিকদের দেখা গেছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে। কয়েক মাস আগেই স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেছিল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী এবং আধিকারিকরা।
কয়েক সপ্তাহ আগে এক বেসরকারি ও ব্যক্তিগত সংস্থা থেকে প্রকাশিত এক র‌্যাঙ্কিং উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষ। তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। কেউ কেউ সেই র‌্যাঙ্কিংকে এন‌আই‌আর‌এফ এর সমতুল্য বলে প্রচার করতে থাকেন। এদিকে এন‌আই‌আর‌এফ এর র‌্যাঙ্কিং নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থার জন্য উপাচার্য শংকর ঘোষকেই দায়ী করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল।

শিক্ষক মহলের এক অংশ মনে করছেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনের অদক্ষতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গতিকে স্থিমিত করে দিয়েছে। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয় গত ২০১৬ সালের ন্যাক ভিজিটে 'এ' গ্ৰেড পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ উজ্জ্বল করেছিল। সেই সময়ে উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন মলয়েন্দু সাহা। এক অধ্যাপক জানান, এ আর নতুন কী? কয়েকবছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হাল। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসংস্কৃতি ও পঠন-পাঠনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সূত্রের খবর।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670