কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষের সময়কালে তুঘলকি শাসনের নজির ,





নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী:


তুঘলকি শাসনের নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষের সময়কাল। কার্যকরী সমিতির বৈঠক ছাড়াই একের পরে এক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্যের দায়িত্ব বন্টন হ‌ওয়া বছর ফিরতে চলল। গত বছর ১৮ জুন সহ উপাচার্যের পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় অধ্যাপক গৌতম পালকে। উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষ দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সহ উপাচার্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন না। সহ উপাচার্যকে অপদস্ত করার প্রক্রিয়া ধারাবাহিক রয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগেই ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কোভিড ১৯ উত্তর পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছেন। আশ্চর্যজনক ভাবে সেখানে সহ উপাচার্য গৌতম পাল ও রেজিষ্টার দেবাংশু রায়ের নাম অনুপস্থিত। সব কমিটিতেই উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ সহ-উপাচার্য গৌতম পালকে বাদ দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দিনের পর দিন কমিটিতে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের নাম বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পদকেই আশ্চর্যজনক ভাবে অপমান করে যাচ্ছেন উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ। উল্টে আস্থা ভাজনদের নিয়ে কমিটি গঠন করে স্বেচ্ছাচার কাজকর্মের নজির গড়ছেন উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষ। 

সহ-উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার জন্য পৃথক আবাসন এখনও অবধি দেওয়া হয়নি। বছর ঘুরতে চললো, পাঁচ বার পুনঃস্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও উপাচার্য সহ-উপাচার্যের জন্য তার আবাসনের ব্যবস্থা করেননি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতল বিশিষ্ট বিজয়লক্ষ্মী ভবনে বর্তমানে একাই থাকেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তাঁর কোন চেম্বারও নেই। অভিযোগে প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বিজেপি বা আরএসএস এবং সিপিআইএম ঘনিষ্ঠদেরকে বিভিন্ন কমিটিতে রাখছেন। 

অন্যদিকে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের ওয়েবকুপার অভিযোগ, তাদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের কোন কমিটিতে রাখা হচ্ছে না। সম্প্রীতি যে সব কমিটি করেছেন সেটাতে চোখ রাখলেই ওঠে আসছে করুণ চিত্র। সেখানে দ্বিতীয় নম্বরে সুভাষ সরকারকে সদস্য করেছেন। তাঁর বাড়ি কাঁচড়াপাড়ায় এবং তিনি মুকুল রায়ের কাছের লোক বলে সকলেই জানেন। কিছুদিন আগে রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে এই সুভাষ সরকারকেই রেজিস্ট্রার করেছিলেন উপাচার্য। সুভাষ সরকার ও পরীক্ষার নিয়ামক বিমলেন্দু বিশ্বাসের নিজের মেয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থী। আর এঁরাই এখন অন্যান্য কাজের মত পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও যুক্ত থাকছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে স্বার্থজনিত সংঘাত উঠে আসছে। উপাচার্য এ বিষয়ে অবগত ‌হ‌ওয়া সত্ত্বেও এই অনৈতিক বিষয়টিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র মতে বিমলেন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর তদন্ত করেছে এবং সেই তদন্তের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত উপাচার্য কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় দেখভালের দায়িত্ব সহ-উপাচার্যের রয়েছে। অথচ পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কমিটিতে সহ-উপাচার্যকে না রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছরের অধিক সময় ধরে কোন ধরনের কার্যকরী সমিতির মিটিং ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উপাচার্য নিজে নিয়েছেন। এই সমস্ত কমিটিতে নিজের পছন্দমত লোকদের রেখে নামে মাত্র নিজের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তুঘলকি শাসন চালাচ্ছেন উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষ। বেশ কয়েক মাস আগেই স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ তুলে শিক্ষক, আধিকারিক, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকরা বিভিন্ন দাবিতে তাঁর পদত্যাগের পক্ষে সওয়াল করে। তার পরেও এখনো পর্যন্ত স্বেচ্ছাচারীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন অধ্যাপক শংকর কুমার ঘোষ।


যতগুলো কমিটি করছেন সেখানে সহ উপাচার্য গৌতম পালকে রাখেননি বরং পদে পদে সহ উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার দেবাংশু রায়কে অপমান করেছেন উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষ ।

বিভিন্ন কমিটিতে তাদেরকেই রাখছেন যারা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সম্প্রীতি যে সব কমিটি করেছেন সেটাতে চোখ রাখলেই ওঠে আসছে করুণ চিত্র। একটা কমিটিতে দ্বিতীয় নম্বরে আছেন সুভাষ সরকার। তাঁর বাড়ি কাঁচড়াপাড়ায় এবং তিনি মুকুল রায়ের কাছের লোক বলেই পরিচিত। কিছুদিন আগে রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে এই সুভাষ সরকারকেই রেজিস্ট্রার করেছিলেন উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অন্যতম কাছের শিক্ষক সুখেন বিশ্বাস ও দূর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক বিমলেন্দু বিশ্বাসকে জয়েন্ট কনভেনার করেছেন করোন নিয়ে তৈরি কমিটির। অন্যদের মধ্যে বেশিরভাগ যারা সিপিএম ও বিজেপি করেন তাদেরকেই মেম্বার করেছেন।

মিটিং করে উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষ অফিসারদের মধ্যে কয়েকজনকে বলেছেন যে তিনি সহ উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার দেবাংশু রায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনওমতে কাজ করতেই দেবেন না। 

সমস্ত কমিটি করেছেন মাননীয় উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ সহ উপাচার্য গৌতম পাল ও রেজিস্ট্রার দেবাংশু রায়কে বাদ দিয়েই। পরীক্ষা সমূহের কমিটিতেও সহ উপাচার্য গৌতম পালকে না রেখেই কমিটি গঠন করলেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। 

সরকারি নির্দেশ মতো পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক বিমলেন্দু বিশ্বাস নন পরীক্ষা সমূহের সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন সহ উপাচার্য। সেই সরকারি আইন অনুযায়ী কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন না উপাচার্য। বরং সরকারি আইন ও নির্দেশ তিনি পরিবর্তন করে নিজের ইচ্ছে মতোই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670