সরকারি ত্রাণ সামগ্রী যথেষ্ট নয়, সমস্যায় যাযাবর পরিবার যা,

 



নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা,




সরকারি খাবার শেষ, কচু পাতা সেদ্ধ খেয়ে দিন কাটছে যাযাবরদের উঠছে অভিযোগ।
(জেলা নেতা র ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক)

 লকডাউন এর জেরেএর জেরে কাজ হারিয়ে ঘরে বসেই দিন কাটাচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়গড়ি ,বাইশা বাগান প্রভৃতি এলাকার মুসাহার বেদে বিন সম্প্রদায়ের লোকেরা। 



  কারও কাজ মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ কর বা তাবিজ মাদুলি কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করে জীবন যাপন করা। 

 জীবিকা নির্বাহের জন্যদলবেঁধে ঘোরাঘুরি করাও নিষিদ্ধ হয়ে আছে।




 এর জেরে চরম অসুবিধায় পড়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার প্রায় শখানেক যাযাবর পরিবার। লকডাউন শুরু হওয়ার দিনে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর উদ্যোগে এদের ত্রাণ হয়েছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।




 কিন্তু লক ডাউনের বেশ কিছুদিন যেতেই স্থানীয় প্রশাসন থেকে পাওয়া ত্রাণের সমস্ত খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আশেপাশের  থেকে সংগ্রহ করে আনা কচু পাতা সেদ্ধ তার সঙ্গে ভাতের মার খাদ্য খেয়ে দিন গুজরান হচ্ছে এলাকার আনুমানিক100 টি পরিবারের এমনটাই উঠছে অভিযোগ।

এদেরই একজন জগদীশ বেদ জানালেন চারিদিকে বন্ধের জন্য আমরা কাজ করতে বেরোতে পারছি না। প্রথম দিন এলাকার বিডিও অফিস থেকে চাল ও অন্যান্য খাবার জিনিস পাওয়া গেছিল।

 কিন্তু সেটা খুব তাড়াতাড়ি আমাদের শেষ হয়ে যায়। আমরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে তা বিক্রি করি। পরিবারকে নিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে হয়।




 বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ালো আমরা স্থায়ীভাবে হরিশ্চন্দ্রপুর এর গড়গড়ি ও বাইসথাকি। থাকার জন্য আমাদে কিন্তু  আমাদের এখন কোন  রোজগার নেই। সরকারি ত্রাণ ও শেষ হয়ে গিয়েছে। 

তাই বাধ্য হয়ে এখন জঙ্গল থেকে কচুপাতা নিয়ে ওটাই সেদ্ধ করে খাচ্ছি। আমাদের মধ্যে কয়েকজনের রেশন কার্ড থাকলেও।


 শেখান থেকে পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছিনা। আমরা চাই অবিলম্বে সরকার আমাদের বাচ্চাদের কথা ভেবে কিছু খাবারের ব্যবস্থা নিক।
এ প্রসঙ্গে জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা স্থানীয় ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা অজিত সাহা জানালেন গড়গড়ি ও বাইশা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এই মুশর সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করছে।লকডাউন শুরুর পরেই হরিশ্চন্দ্রপুর 1 নং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক হরিশ্চন্দ্রপুর থানা র আইসির এর উদ্যোগে প্রথমদিকে এরা কিছু ত্রাণ পেয়েছিল। 

কিন্তু সেগুলোতাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গিয়েছে। এদের কয়েকজনের রেশন কার্ড থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে রেশন তারা পাচ্ছে না। এলাকার কোন জনপ্রতিনিধি এখানে আসেনি বলে অভিযোগ তোলেন অজিতবাবু। 

রেশন কার্ড না থাকলে রেশন পাওয়া যাবে এই সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা থাকলেও স্থানীয় রেশন ডিলার রা জানাচ্ছেন পরে যদি মাল আসে তখন দেওয়া যাবে এমনটাই অভিযোগ তোলেন অজিত সাহা
এদিকে এ ঘটনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন মালদা জেলার ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমন্ত মিত্র। 

তিনি এই পোস্টের মাধ্যমে ওই এলাকার মানুষদের সাত পাতা সেদ্ধ খেয়ে বেঁচে থাকার কথা লেখেন। এর জেরেই এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
জেলা পরিষদের শিশু নারী ও ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ মর্জিনা খাতুন জানান আমি ওই এলাকার মানুষদের দুর্দশার কথা শুনেছি। 

ওরা বেশ কিছুদিন আগে এলাকায় ফিরেছে বলে শুনেছি। আমি স্থানীয় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কে দিয়ে আরো প্লান যাতে পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করছি। আর এখন রাজনীতি করার সময় নয়। কিছু নেতা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনার প্রচার করে রাজনৈতিক ফায়দা না তুলে বরঞ্চ ওই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ালে আমরা বেশি খুশি হব। 

আমিও চাই তারাও ওই দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াক।
এই প্রসঙ্গে শ্রীমন্ত মিত্র জানান কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয় আমি শুধুমাত্র এলাকার মানুষদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলাম যদি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেএই ঘটনার কথা জানতে পেরে কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। 




এই মুহূর্তে যেহেতু রাস্তায় নেমে সাহায্য তোলা সম্ভব নয়। তাই আমরাই জেলা পার্টির তরফ থেকে অবিলম্বে ওই পরিবারগুলির হাতে ত্রাণ তুলে দেব।
এদিকে জেলার তৃণমূলের যুব সহ-সভাপতি বুলবুল খান ঘটনার খবর জানতে পেয়ে আগামীকালই ওই পরিবারগুলির হাতে ত্রাণ পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

 তিনি জানান রাজনৈতিক বিরোধিতা ভুলে সকলকেই এই কাজে ঝাপিয়ে পড়া উচিত।
এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিসবা খাতুনের স্বামী আফজাল হোসেন জানিয়েছেন এখন পঞ্চায়েত বন্ধ আছে তাই পঞ্চায়েত থেকে থেকে এখনো কিছু করা সম্ভব নয়। আমি অবিলম্বে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু খাবার এখানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছি।

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু জানালেন আমরা লোকজনের প্রথম দিনই চাল আলু সাবান ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী পরিবারগুলি হাতে তুলে দিয়েছি। আগামীতে আরো কিছু ত্রাণ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


এদিকে পরিবারগুলির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে হরিশ্চন্দ্রপুর রুটি ব্যাংকের সদস্যরা আজি ৪০০ জনের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। আগামীতেও রোজ খাবারের প্যাকেটের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে সংস্থার সদস্যরা।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670