বাংলার অসহায় মানুষের কল্যাণে অনন্য পথিকৃৎ দানবীর মোস্তাক হোসেন





ফারুক আহমেদ 




পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার মোস্তাক হোসেনের পিতা মাতার নামাঙ্কিত জিডি মেধাবৃত্তি পেয়ে হাজার হাজার গরিব ছাত্রছাত্রী জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণকর কাজের প্রসার ঘটাতে জিডি মেধাবৃত্তি প্রতি তিন মাস অন্তর প্রদান করেন মোস্তাক হোসেন। রাজ্যের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী জিডি মেধাবৃত্তি পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন বিগত কয়েক দশক ধরে। 




বহু গরিব দুস্থ ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা অর্জন করে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারছে মোস্তাক হোসেন মানবিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলেন বলেই। 

মোস্তাক হোসেন প্রতি বছর ২০ কোটির অধিক টাকা মেধাবৃত্তি প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি বহু মিশনারী স্কুলকে আর্থিক সাহায্য করেন।




যখন মানুষের বিপদে পড়েন তখনই বিভিন্ন প্রান্তে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেন সমাজবন্ধু মোস্তাক হোসেন। 

এবারও তিনি গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন। 

পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার মোস্তাক হোসেন লকডাউন চলছে তাই গরিব মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন। 




গরিব মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছে পতাকা শিল্পগোষ্ঠী ও জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটির প্রধান মোস্তাক হোসেন ও  মুশরেফা হোসেন।

পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে  হাজার হাজার গরিব মানুষের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে পতাকা শিল্পগোষ্ঠী ও জিডি  চ্যারিটেবল সোসাইটির পক্ষ থেকে। 

খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে দেওয়া হচ্ছে পাঁচ কেজি চাল, তিন কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম মুসুর ডাল, ৫০০ গ্রাম সরষের তেল।  সচেতন করতে এবং গরিব মানুষকে সুস্থ রাখতে দেওয়া হচ্ছে একটি ডেটল সাবান। এসব সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন জিডি ও পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরা।

পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার মোস্তাক হোসেন কথায় সরকারি নির্দেশিকা মেনে সামাজিক দূরত্ব রেখে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কাজ চলছে। এই সামাজিক কাজ করছে জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকরা।




মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না বিভিন্ন প্রান্তে তখন সেই চাহিদা পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে জিডি চ্যারিটেবল সোসাইট। কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নিজেরাই মাস্ক তৈরি করছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই মাস্ক তৈরি করার কাজ চলছে। সেই মাস্ক যেমন জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটির তরফে বিলি করা হচ্ছে, তেমনি বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন ব্লক প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়াও হচ্ছে। 

জিডির অন্যতম কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন বললেন, লকডাউন জারি হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই আমরা মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু করেছি। আগামী কয়েকদিনে সেই ক্রাইসিস বাড়বে বলে মনে হয়। সেই মতো জিডির স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়েছে। শোস্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েং সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের কাজ চলছে। বিড়ি কারিগরদের হাতেও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

বাংলার অসহায় মানুষের কল্যাণে অনন্য পথিকৃৎ মোস্তাক হোসেন।

"উদার আকাশ" ঈদ-শারদ উৎসব সংখ্যা ১৪২৬, বিশেষ বিষয়, সহাবস্থান ও সমন্বয় সংখ্যাটি উদ্বোধন করেছিলেন পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার মোস্তাক হোসেন। গত বছর পতাকা হাউসে "উদার আকাশ" পত্রিকার সম্পাদক হয়ে পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাটি মোস্তাক হোসেন-এর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। ওইদিন "উদার আকাশ" পত্রিকা ও প্রকাশনের পক্ষ থেকে মোস্তাক হোসেন-এর হাতে "দানবীর পুরস্কার" তুলে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আমরা সবাই জানি সমাজ কল্যাণে অফুরন্ত অবদানের জন্য মোস্তাক হোসেন পথিকৃৎ। তাঁকে সম্মাননা প্রদান করতে পেরে উদার আকাশ পত্রিকা ও প্রকাশনও সম্মানিত হয়েছিল। 



কলেজজীবন থেকেই সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় নিবেদিতপ্রাণ "উদার আকাশ" পত্রিকা সম্পাদনা করি। ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করছি নিভৃতে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে। 

বাঙালির দুই মুখ্য সম্প্রদায়ের দুই প্রধান উৎসব ঈদ ও শারোদৎসবকে সামনে রেখে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনের জয়গান গাওয়াই "উদার আকাশ" পত্রিকার মূল লক্ষ্য।

সম্পাদকীয়তে মুখ্যত দুটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছিলাম। দেশভাগের পর এপার বাংলার সংখ্যালঘু মুসলমানদের অবস্থা খুবই করুন ছিল। সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে নানা রকমের কায়িক শ্রম ও ছোট ছোট ব্যবসার মাধ্যমে কেউ কেউ একটু আধটু আর্থিকভাবে সক্ষম হয়। কিন্তু শিক্ষাদীক্ষায় তাঁদের অবস্থান ছিল একেবারে তলানিতে। সেই অবস্থার বদল শুরু হয় আটের দশকে এবং এই পরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা নেয় মিশনারী স্কুল। এক্ষেত্রে এই মিশন আন্দোলনে শিল্পপতি মোস্তাক হোসেনের সোনালী পৃষ্ঠপোষকতা বাঙালি মুসলিম সমাজের প্রান্তিক অংশগুলো চমৎকার দেখাতে এগিয়ে এলেন। মুসলিম সমাজের প্রান্তিকদের মর্যাদার আসনে তুলে আনতে বড়ো ভূমিকা পালন করলেন মোস্তাক হোসেন। তাঁর ছত্রছায়ায় জাতি-ধর্ম- বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলেই উপকৃত হয়েছেন এবং নিয়মিত হচ্ছেন। এই মহান বাঙালি শিক্ষাব্রতী ও পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার মোস্তাক হোসেনকে "ভারতরত্ন" দেওয়ার প্রস্তাব করি। 

দ্বিতীয় যে বিষয়টি উল্লেখ করেছি, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশ পিছিয়ে থাকা সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারের তরফে বিশেষ ফাণ্ডের ব্যবস্থা করা হোক। এরই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্তনিগম থেকে গ্যারেন্টারমুক্ত লোন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন এই সমাজে গ্যারেন্টার পাওয়া খুবই কঠিন কাজ। এবং কেবল এ কারণের জন্য বহু অভাবী মেধাবী উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

পত্রিকার মাধ্যমে শুধু সাহিত্যচর্চা নয় সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকাশের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই। 

উল্লেখ্য, "উদার আকাশ" এই বিশেষ সংখ্যাটি উৎসর্গ করা হয়েছে দানবীর মাননীয় মোস্তাক হোসেন মহাশয়কে।
 
প্রতিটি সংখ্যার মতো এই সংখ্যাতেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ স্থান পেয়েছে। "সহাবস্থান ও সমন্বয়" বিষয়ে মহামূল্যবান প্রচ্ছদ নিবন্ধ লিখেছেন স্বনামধন্য প্রাবন্ধিক শেখ একরামূল হক। 

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
Contact for advertising : 9831738670